২০২৯ সালে ওই আইন অনুযায়ী সংসদে এবং রাজ্য বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ চালু করা হবে। ততদিনে জণগণনা এবং লোকসভা ও বিধানসভাগুলির নতুন করে সীমানা পুনর্গঠন বা দুই ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ভাবনায় কি এক দেশ এক ভোট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 11 March 2026 09:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ (women's reservation) চালু করতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এজন্য একান্তে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্র।
সরকারের ভাবনা হল, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) পর এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ (women's reservation) চালু করে দেওয়া। এজন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ২০২৩ সালেই সেরে রাখা হয়েছে। ওই বছর নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম বিল সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাশ করানো হয়।
তখন ঠিক হয়েছিল, ২০২৯ সালে ওই আইন অনুযায়ী সংসদে এবং রাজ্য বিধানসভা ও বিধান পরিষদগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ চালু করা হবে। ততদিনে জণগণনা এবং লোকসভা ও বিধানসভাগুলির নতুন করে সীমানা পুনর্গঠন বা দুই ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু সরকার এখন মনে করছে, জনগণনার কাজ শেষ হলেও ২০২৯- এর মধ্যে সীমানা পুনর্গঠন সম্পন্ন করা যাবে না। ফলে বহু বছরের জন্য মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার বিষয়টি চাপা পড়ে যেতে পারে।
এখন তাই সরকারের ভাবনা হল সংরক্ষণ সংক্রান্ত অধিনিয়ম চালু করে লোকসভা (Loksabha), রাজ্যসভা (Rajya Sabha) এবং বিধানসভা (Assembly) ও বিধান পরিষদের এক তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য এখনই চিহ্নিত করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আসনগুলি কোনও কারণে শূন্য হলে সেটা মহিলা প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা হবে।
যদিও রাজনৈতিক মহল শেষ করে বিরোধী নেতাদের একাংশ মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই ভাবনার পেছনে কাজ করছে, এক দেশ এক ভোট নীতি। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন সময় থেকে এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থা চালু করার ভাবনা আছে মোদী সরকারের। তার আগে সরকার মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ চালু করে নিতে চায় বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৩-এ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলটি সংসদে আলোচনা সময়ে বিরোধীরা বারে বারে সেটি দ্রুত কার্যকর করার দাবি তুলেছিল। সরকার পক্ষেরও কেউ কেউ দাবি করেন, এই সংরক্ষণের বিষয়টি ফেলে রাখা ঠিক হবে না। মহিলাদের একাধিক সংগঠনে এই ব্যাপারে সরকারের কাছে জোরদার দাবি জানায়। সরকারের শীর্ষ মহল এখন মনে করছে, পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসে এখনই সংরক্ষণ চালু করে দেওয়া যেতে পারে। তাতে সরকার, বিরোধী কোন পক্ষেরই ক্ষতি নেই।