মেয়েদের পোশাকে সাজিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 May 2025 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের (Gujarat) পাটন জেলার জাখোত্রা গ্রামে এক ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে এক মহিলা ৫৬ বছর বয়সি এক দলিত বৃদ্ধকে (Dalit Old Man) মেয়েদের পোশাকে সাজিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির নাম হরজি দেবা সোলাঙ্কি।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাত ১১টা নাগাদ। সুরেশ গেঙ্গা ভীমা অহির জানান, তাঁর স্ত্রী গীতা আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। পরদিন ভোরে তিন বছরের সন্তানের কান্নায় জেগে ওঠেন তিনি। স্ত্রীকে খোঁজার জন্য বাইরে বেরোতেই বাড়ির পিছনের উঠানে একটি আধপোড়া মৃতদেহ (Dead Body) দেখতে পান—মহিলার পোশাক ও গয়নায় সাজানো সেই দেহ দেখে প্রথমে স্তব্ধ হয়ে যান সুরেশ। তাঁর ধারণা ছিল, হয়তো স্ত্রী গীতা আত্মঘাতী হয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি একজন পুরুষ। তার নাম হরজি সোলাঙ্কি, যিনি পাশের গ্রাম ভাউভায় একা থাকতেন ও দিনমজুরের কাজ করতেন। এরপরেই শুরু হয় রহস্য উদঘাটনের পালা।
তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুরেশের স্ত্রী গীতা, বিগত কয়েক মাস ধরে ভারত লুভা অহির নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনে মিলে পরিকল্পনা করেন, গীতার ভুয়ো মৃত্যু দেখিয়ে তাঁরা পালিয়ে নতুন জীবন শুরু করবেন। সেই পরিকল্পনাতেই হরজিকে টার্গেট করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হরজিকে হত্যার আগে ভারত তাঁকে এক ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেন। অচেতন হলে তাঁকে বেঁধে বাইকে করে নিয়ে যান জাখোত্রা গ্রামে, যেখানে রাতে গীতা তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। এরপর তাঁরা হরজিকে মহিলাদের পোশাক পরিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
পোস্টমর্টেমে দেখা যায়, হরজি তখনও জীবিত ছিলেন, অর্থাৎ তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পাশের একটি পেট্রোল পাম্পের কর্মীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, গীতা সেদিন পেট্রোল কিনেছিলেন একটি ক্যান নিয়ে।
ঘটনার পর গীতা ও তাঁর প্রেমিক সান্তলপুর, রাধানপুর হয়ে পালিয়ে যান বাণাসকাঁঠার পালনপুরে। সেখানকার রেলস্টেশন থেকে পুলিশ তাঁদের বুধবার ভোররাতে গ্রেফতার করে। তাঁদের কাছে জোধপুর যাওয়ার টিকিট পাওয়া যায়।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনও জাতিগত বিদ্বেষ জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বরং এটি ছিল একটি আত্মগোপনের বিকৃত পরিকল্পনা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত চলছে।