১৯ জানুয়ারি ১০ ও ১৩ বছর বয়সি দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে পেশ করা হয়। তৃতীয় অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। শিশুটির মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তিনজনই তাঁর প্রয়াত ১৪ বছরের ছেলের পরিচিত ছিল।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 January 2026 11:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায় ছয় বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের (Delhi Minor Gang Rape) অভিযোগ সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) জানিয়েছে, ১৮ জানুয়ারি এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে নাম জড়িয়েছে তিন জন নাবালকের - যাদের বয়স ১০, ১৩ এবং ১৪ বছর! ঘটনার পর দু’জনকে গ্রেফতার (Minor Gang Rape) করা হলেও তৃতীয় অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারের কোনও সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি বাবা-মা ও তিন ভাইবোনের সঙ্গে থাকে। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর সে বাড়িতেই রয়েছে এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধে সাতটা নাগাদ শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে। শরীর থেকে রক্তপাত হচ্ছিল এবং সে প্রায় অচেতন ছিল। প্রথমে জ্ঞান ফেরার পর শিশুটি জানায়, সে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। পরিবারের দাবি, তখন পাশের বাড়ির এক ১৩ বছরের কিশোরও একই কথা বলে।
তবে পরে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলে শিশুটি ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দেয়। অভিযোগ, পরিবারের পরিচিত তিন নাবালক তাকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ধরে নিয়ে যায়। শিশুটির মা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী মিষ্টি কিনে মেয়েকে লেনের মুখে নামিয়ে দিয়ে গেছিলেন। সেখান থেকেই অভিযুক্তরা তাকে কাছাকাছি একটি ফাঁকা দোতলা বাড়িতে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলা হয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিশুটিও একই তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিবার প্রথমে জাফরাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরে মামলাটি ভজনপুরা থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য জগ প্রবেশচন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটি হাঁটতে পারছিল না এবং গুরুতর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। চিকিৎসকরা একাধিক শারীরিক পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে শিশুটি শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বসলে বা হাঁটলে তার যন্ত্রণা বাড়ছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রক্তের চিহ্ন উদ্ধার করেছেন এবং ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
১৯ জানুয়ারি ১০ ও ১৩ বছর বয়সি দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে পেশ করা হয়। তৃতীয় অভিযুক্ত কিশোর ও তার পরিবারের খোঁজে তল্লাশি চলছে। শিশুটির মা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তিনজনই তাঁর প্রয়াত ১৪ বছরের ছেলের পরিচিত ছিল।
এদিকে শিশুটির বাবা, যিনি পেশায় রিকশাচালক, অভিযুক্তদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তরা যদি নিজেদের কাজের পরিণতি বুঝে থাকে, তবে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। তিনি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে তিনি কাজে যেতে পারছেন না।