এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুসংস্কারের প্রভাব এখনও গভীর। গুজব ও অন্ধবিশ্বাসের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 December 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাইনি সন্দেহে (Witchcraft) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ফের সামনে এল দেশে। অসমের (Assam) কার্বি আংলং জেলার হাওরাঘাট এলাকার বেলোগুড়ি মুন্ডা গ্রামে এক দম্পতিকে (Couple) কুপিয়ে খুন করে তাঁদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীদের (Villagers) একাংশের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের নাম গার্দি বিরোয়া (৪৩) ও মীরা বিরোয়া (৩৩)। অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। পরে দম্পতির ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় যুক্ত সকল অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুসংস্কারের প্রভাব এখনও গভীর। গুজব ও অন্ধবিশ্বাসের জেরে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। “এখনও অনেক মানুষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন। তার ফলেই নিরীহ মানুষদের প্রাণ দিতে হচ্ছে,” মন্তব্য ওই আধিকারিকের।
এই ঘটনায় ফের অসমে ডাইনি সন্দেহে হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, অসমে ডাইনি সন্দেহে হেনস্থা ও হত্যার বিরুদ্ধে কড়া আইন রয়েছে। ২০১৫ সালে রাজ্যে চালু হয় Assam Witch Hunting (Prohibition, Prevention and Protection) Act। এই আইনে কাউকে ডাইনি বলে দাগিয়ে দেওয়া বা সেই অভিযোগে হামলা ও হত্যার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার নিয়ম রয়েছে।
তবে আইন থাকা সত্ত্বেও গত এক দশকে অসমে ডাইনি সন্দেহে ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সরকারি তথ্যেই জানা যায়। কার্বি আংলংয়ের এই সাম্প্রতিক ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল - আইন থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই কতটা সফল?