জানানো হয়েছে—ইএমআই নম্বর টেম্পার করা ফোন ব্যবহার করা মানেই বড় ঝুঁকি। যে কোনও মূল্যে এমন ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাইবার অপরাধে (Prevent Cyber Fraud) লাগাম টানতে অভূতপূর্ব কড়াকড়ি। সোমবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দিল ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকম (DOT)—এখন থেকে সিম কার্ড (SIM Card ) ব্যবহার করে কোনও ধরনের অপরাধমূলক কাজ হলে দায় নিতে হবে সেই ব্যক্তিকেই, যার নামে সিম নথিভুক্ত।
'অজান্তে হয়েছে’, ‘আমার সিম ব্যবহার করেছে অন্য কেউ’—এই অজুহাত আর মানবে না কেন্দ্রীয় সংস্থা। ফলে মোবাইল ব্যবহারে আরও সচেতনতা ও সতর্কতার উপর জোর দিল ডট।
ডটের মতে, সাইবার অপরাধীরা দিন দিন যে ভাবে সাধারণ মানুষের সিম ও ফোন নম্বরকে হাতিয়ার করছে, তা ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই মালিকের দায় নির্দিষ্ট করার পাশাপাশি জাল বা বিকৃত ইএমআই নম্বরযুক্ত ফোন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সংস্থা। জানানো হয়েছে—ইএমআই নম্বর টেম্পার করা ফোন ব্যবহার করা মানেই বড় ঝুঁকি। যে কোনও মূল্যে এমন ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
তাহলে গ্রাহকরা কী করবেন?
ডটের বার্তা পরিষ্কার—নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম পালন করলেই অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। বিবৃতিতে তুলে দেওয়া হয়েছে একাধিক সতর্কতা—
নতুন ফোন কেনার আগে সঞ্চার সাথী অ্যাপ দিয়ে ইএমআই নম্বর যাচাই করুন। ফোনটি জাল বা বিকৃত ইএমআই যুক্ত কি না তা আগে নিশ্চিত হতেই হবে। সন্দেহজনক মনে হলে সেই ডিভাইস ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ফটোকপি জমা দিয়ে বা অজানা এজেন্টের মাধ্যমে সিম কেনা এখন মারাত্মক ঝুঁকির। সিমের অপব্যবহার হলে আইনের চোখে দায় পড়বে মালিকের উপরই।
ডট জানাচ্ছে, অন্যের নামে থাকা সিম ব্যবহার করা বা নিজের সিম অন্যকে দেওয়া—দুই-ই ঝুঁকিপূর্ণ। কোনও অপরাধ ঘটলে আসল মালিকই দায়ী ধরা হবে। বাড়ির ওয়াইফাই মডেমে ব্যবহৃত সিম দিয়েও অপরাধ সংগঠিত হতে পারে। তাই সে ক্ষেত্রেও সজাগ থাকা জরুরি।
কিছু অ্যাপ ফোন নম্বর আড়াল করতে বা বদলে দিতে পারে। ডটের আশঙ্কা, এগুলো ব্যবহার করলে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইন কী বলছে?
ডটের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৩ সালের টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট—যেখানে স্পষ্ট বলা আছে, ইএমআই নম্বর বদলালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, সঙ্গে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি রুলস অনুযায়ী ইএমআই বিকৃত করা যায় এমন ডিভাইস তৈরি করাও বেআইনি।
ফলে স্পষ্ট, কেন্দ্র এবার সাইবার অপরাধ রুখতে কঠিন পথে হাঁটছে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বার্তা—ফোন ও সিম ব্যবহারে সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। এখন থেকে মোবাইল শুধু যোগাযোগের যন্ত্র নয়—আইনি দায়েরও একটি বড় অংশ।