এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পরও সান্দাকফুতে কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। উচ্চতাজনিত ঝুঁকি কারা নেবেন, কারা নেবেন না—সে নিয়েও কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 November 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সান্দাকফুর (Sandakphu) পাহাড়ি সৌন্দর্যে গেল মৃত্যুর ছায়া। দার্জিলিং বেড়াতে এসে প্রাণ হারালেন যাদবপুরের বাসিন্দা ৭২ বছরের অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় (Tourist)। সোমবার রাতের এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বারবার পর্যটকের মৃত্যু সত্ত্বেও প্রশাসনিক তৎপরতার অভাব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (GTA faces questions, where is the security and surveillance?)।
বিশেষত, উচ্চতার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যটকদের বয়স বা শারীরিক সক্ষমতার কোনও প্রাথমিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না, তা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে।
জিটিএ-র ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান জানিয়েছেন, মৃতার দেহ কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দার্জিলিং সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “মানেভঞ্জনের ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশন যথাসম্ভব সহযোগিতা করেছে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে।”
পুলিশ ও জিটিএ সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে দুই বোন—অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় এবং অজন্তা বন্দ্যোপাধ্যায়—দার্জিলিং বেড়াতে আসেন। দু’জনেই প্রবীণ নাগরিক। প্রথমে তাঁরা দু’দিন কাটান লেপচাজগতে। সেখান থেকে টুমলিংয়ে এক রাত থাকার পর সোমবার তাঁরা মানেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফুর উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুরে সান্দাকফু পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অনিন্দিতা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে মানেভঞ্জন ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে তাড়াতাড়ি সুখিয়াপোখরি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে গভীর রাতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য দার্জিলিং সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এটি কোনও পৃথক ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে সান্দাকফুতে একাধিক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের রাজ নারায়ণ দে (৫৫)-এর মৃত্যু হয়। তার আগে উত্তর দিনাজপুরের এক পর্যটকের মৃত্যু ঘটে একই এলাকায়। ২০২২ সালের অক্টোবরে টেন্টে ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু হয় এক ইজরায়েলি পর্যটকের। গত বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরেও সান্দাকফুতে ঘুরতে গিয়ে প্রাণ হারান কলকাতা ও দমদমের দুই পর্যটক—আশিস ভট্টাচার্য (৫৮) এবং অঙ্কিতা ঘোষ (২৮)।
এরপর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মালবাজারে বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের আলাহিন শেখের। একই দিন প্রাণ হারান হুগলির দীপাঞ্জন সাহা (৫৮)।
এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পরও সান্দাকফুতে কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। উচ্চতাজনিত ঝুঁকি কারা নেবেন, কারা নেবেন না—সে নিয়েও কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটন মরশুমে চাপ বাড়লেও স্বাস্থ্যসুরক্ষার ব্যবস্থা এখনও ‘নগণ্য’। ফলে বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন একটাই—আর কত মৃত্যু হলে টনক নড়বে প্রশাসনের?