ভারতীয় ডেটা তৈরি হলে পরিবারের চিকিৎসা খরচ কমতে পারে এবং প্রেসক্রিপশন নির্ধারণ করা যাবে ভারতীয়দের বিশেষ মেটাবলিক ও হরমোনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 11 February 2026 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও বাস্তবভিত্তিক ও ভারতীয়দের প্রয়োজন অনুযায়ী গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। সংগঠনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভারতীয়দের স্বার্থে ভবিষ্যতের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলিতে অগ্রাধিকার পাবে ভারতীয় শরীরের গঠন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এবং জীবনযাত্রার ধরন (ICMR clinical trials Indian body type)।
দীর্ঘদিন ধরে এটাই সাধারণ বিষয় যে, বিশ্ব জুড়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণার বড় অংশ পশ্চিমের দেশগুলির ডেটার ওপর নির্ভর করে হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ ওষুধ, থেরাপি এমনকি ভ্যাকসিনও তৈরি হয়েছে ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার মানদণ্ডের ভিত্তিতে। এবার সেই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে আইসিএমআর (ICMR clinical trials India)।
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটা বড় কারণ তুলে ধরেছে ভারতীয় এই সংগঠন। তা হল, ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা লাইফস্টাইল ডিজিজ (lifestyle diseases India research) - ওবেসিটি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, প্রসেসড খাবারের ব্যবহার, দীর্ঘ সময় বসে থাকা। আর এই সব মিলিয়ে আগামীতে এক বড় স্বাস্থ্যসঙ্কট তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি বদলানো জরুরি হয়ে উঠেছে। আর তার প্রথম ধাপ - ভারতীয় শরীরের বৈশিষ্ট্য ও ভারতীয়দের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যতথ্যের ওপর জোর দেওয়া (India health data mandate)।
কেন এই নতুন নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ?
দশকের পর দশক ভারত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করেছে মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় হওয়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোকে। কিন্তু আইসিএমআর এবং ভারতীয় গবেষণাগুলি (যেমন Journal of Food Science and Technology-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা) বলছে - পশ্চিমের দেশগুলির জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর চিকিৎসা সব সময় ভারতীয়দের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। এর পিছনে রয়েছে জিনগত পার্থক্য, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত প্রভাব - যা রোগের প্রকৃতি এবং ব্যক্তিবিশেষে ওষুধের প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত বদলে দিতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা ‘থিন-ফ্যাট’ বৈশিষ্ট্যের কথা বলেন। অর্থাৎ শরীরের ওজন বা বিএমআই (BMI) স্বাভাবিক হলেও শরীরে ভিসারাল ফ্যাট বেশি থাকে। ফলে তুলনামূলক কম বয়সেই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
ভারতের স্বাস্থ্যসঙ্কট - সংখ্যাই বলছে বাস্তবতা
এই নির্দেশিকার জরুরি প্রয়োজনের পক্ষে রয়েছে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান।
দেশীয় তথ্যভিত্তিক গবেষণায় জোর
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বাস্তব ভারতীয় পরিবেশে চিকিৎসা পদ্ধতি পরীক্ষা করতে অন্তত পাঁচটি হাসপাতালকে নিয়ে মাল্টিসেন্টার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।
লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা কার্যকর কি না, তা জানা নয়, বরং ভারতীয় জনগোষ্ঠীর জন্য তা সাশ্রয়ী ও সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে সহজলভ্য কি না, তাও নিশ্চিত করা।
ভারতীয় ডেটা তৈরি হলে পরিবারের চিকিৎসা খরচ কমতে পারে এবং প্রেসক্রিপশন নির্ধারণ করা যাবে ভারতীয়দের বিশেষ মেটাবলিক ও হরমোনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী।
এই নির্দেশিকার লক্ষ্য কী?
ভারতীয়দের ওপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাকে শক্তিশালী করাই মূল উদ্দেশ্য। তার জন্য কয়েকটি দিক নির্দিষ্ট করা হয়েছে -
বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
ICMR-এর এই পদক্ষেপকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। ভারতের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে বৃহৎ ডেটা ভান্ডার তৈরি হলে লাইফস্টাইল ডিজিজের চিকিৎসা আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং রোগীর চিকিৎসার ফলাফলও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
সব মিলিয়ে, এটি এমন একটি নীতি পরিবর্তন, যা ভারতে লাইফস্টাইল ডিজিজের চিকিৎসার ধরনই বদলে দিতে পারে।