একদিকে ভাইরাল হওয়া সাহসী পদক্ষেপ, অন্যদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ - সব মিলিয়ে রিঙ্কু সিং রাহির পদত্যাগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আমলাতন্ত্রের ভিতরের বাস্তবতা নিয়ে।

আইএএস অফিসার রিঙ্কু সিং রাহি
শেষ আপডেট: 1 April 2026 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম দিন অফিসে যোগ দিয়েই প্রকাশ্যে উঠবস করেছিলেন, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল (IAS officer sit up viral video India)। এবার সেই আইএএস অফিসার রিঙ্কু সিং রাহি পদত্যাগ করলেন (Rinku Singh Rahi IAS resignation)। রেভিনিউ কাউন্সিলের সঙ্গে দীর্ঘসময় যুক্ত ছিলেন।
২০২২ ব্যাচের এই উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আধিকারিক অভিযোগ (civil services controversy) করেছেন, তাঁকে কার্যত সাইডলাইন করে রাখা হয়েছিল এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করার মতো সুযোগ দেওয়া হয়নি (UP IAS sidelined allegation)।
সূত্রের খবর, নিজের পদত্যাগপত্রে রাহি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে রাজ্যের রেভিনিউ কাউন্সিলের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে কোনও অর্থপূর্ণ কাজ দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর পাশাপাশি একটি “সমান্তরাল ব্যবস্থা” (parallel system in civil services controversy) কাজ করছে, যার ফলে প্রশাসনিক কাজকর্মের স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে।
‘বেতন পেয়েছি, কিন্তু কাজের সুযোগ পাইনি’
রাহির দাবি, তিনি নিয়মিত বেতন পেলেও সাধারণ মানুষের সেবা করার মতো সুযোগ পাননি। এই পরিস্থিতিতে পদত্যাগকে তিনি “নৈতিক সিদ্ধান্ত” বলে উল্লেখ করেছেন।
যে ঘটনায় ভাইরাল হয়েছিলেন রাহি
২০২৫ সালের জুলাই মাসে শাহজাহানপুর জেলায় সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) হিসেবে প্রথম দিন যোগ দিয়েই নজরে আসেন রাহি। একটি পরিদর্শনের সময় তিনি দেখেন, কম্পাউন্ডের মধ্যে আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে এবং কয়েকজন প্রকাশ্যে প্রস্রাব করছেন।
এই নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাহি নিজেই এগিয়ে গিয়ে ক্ষমা চান এবং প্রকাশ্যে উঠবস করেন, যে শাস্তি অন্যদের দেওয়া হচ্ছিল, তা নিজে মেনে নিয়ে তিনি বোঝাতে চান, আইনের চোখে সবাই সমান।
এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরেই রাজ্য সরকার তাঁকে বদলি করে রেভিনিউ কাউন্সিলে পাঠায়।
বিতর্ক ও সাহস - দুইয়েরই সাক্ষী রাহির কেরিয়ার
রাহির কেরিয়ার শুরু থেকেই বিতর্ক এবং সাহসিকতার মিশেলে তৈরি। ২০০৯ সালে মুজফ্ফরনগরে সমাজকল্যাণ আধিকারিক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি প্রায় ৮৩ কোটি টাকার একটি দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।
এর কিছুদিন পরই তাঁর উপর হামলা হয় এবং তাঁকে একাধিকবার গুলি করা হয়। গুরুতরভাবে জখম হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান, যদিও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। এই ঘটনার পরও তিনি জনসেবার কাজে থেকে যান। বিভিন্ন পদে কাজ করে সততা ও দৃঢ়তার জন্য পরিচিতি পান।
আইএএস পদে যোগ দেওয়ার আগে তিনি রাজ্য সিভিল সার্ভিসে কর্মরত ছিলেন এবং সেই সময়েই ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
‘জবাবদিহি জরুরি’
নিজের কাজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহি আগেও জানিয়েছেন, জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল কাজের শাস্তি এমন হওয়া উচিত, যাতে তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে - এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে সেই বার্তা দিতে চেয়েছিলেন।
একদিকে ভাইরাল হওয়া সাহসী পদক্ষেপ, অন্যদিকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ - সব মিলিয়ে রিঙ্কু সিং রাহির পদত্যাগ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আমলাতন্ত্রের ভিতরের বাস্তবতা নিয়ে। তাঁর অভিযোগ কতটা সত্য, তা সময়ই বলবে। তবে এই ঘটনা যে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।