তদন্তে আত্মহত্যার কারণ, অভিযুক্তদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্ররোচনা, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 22:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরুণাচল প্রদেশে এক যৌন নির্যাতনের মামলায় নাম জড়িয়েছে এক আইএএস অফিসার এবং সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে। তা ঘিরে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর দুই মৃত্যু। এক কিশোরের আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মঘাতী হলেন সেই সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার। ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর এক ১৯ বছরের কিশোরের দেহ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া আত্মহত্যার চিঠিতে তার বয়ান, “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী তালো পোতম (অভিযুক্ত IAS অফিসার)। উনি আমাকে এই চাকরিতে নিয়োগ না করলে, আমি হয়তো বেঁচে থাকতাম। তাঁর জন্যই আমি সব কিছু করেছি, আর এখন আর বাঁচার কোনও উপায় নেই।”
চিঠিতে আরও উল্লেখ ছিল, অভিযুক্ত আধিকারিক ও এক ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আর্থিক প্রতিশ্রুতি, মানসিক নিপীড়ন ও ভয় দেখানোর মতো বিষয়। ওই কিশোর দাবি করে, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তা জানার পর অভিযুক্তরা তাঁকে পরিত্যাগ করে, শুধু তাই নয় ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন চালিয়ে গিয়েছেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই কিশোরের অভিযোগে নাম থাকা পূর্ত দফতরের (PWD) ওই ইঞ্জিনিয়ার নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। সকাল ১১টার দিকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় এক প্রতিবেশী দরজা খোলা দেখে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
ঘটনাটি গুরুতর মোড় নেয় যখন মৃত কিশোরের বাবা নির্জুলি থানায় এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে নাম রয়েছে প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার তালো পোতম (IAS)-এর, যিনি বর্তমানে দিল্লিতে পূর্ত দফতরের বিশেষ সচিব পদে কর্মরত, এবং লিকওয়াং লোওয়াং, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের।
এফআইআর-এ লেখা, “আত্মহত্যার আগে উদ্ধার হওয়া চিঠিতে মৃত কিশোর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তালো পোতম এবং লিকওয়াং লোওয়াং তাঁকে মানসিকভাবে চরমভাবে নির্যাতন করেছেন, বেআইনি কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছেন।”
পরিবারের দাবি, এই আত্মহত্যার চিঠিই এখন 'মৃত ব্যক্তির মনের অবস্থা ও অভিযুক্তদের ভূমিকার প্রাথমিক প্রমাণ' হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
পরিবারটি প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে যাতে আত্মহত্যার চিঠি, কল রেকর্ড, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণ করে তদন্ত হয়। তাঁদের বক্তব্য, “আমাদের সন্তানকে বাঁচানো যেত, যদি ক্ষমতাসীনদের নিষ্ঠুরতা না থাকত।”
এফআইআর-এর শেষ অংশে উল্লেখ রয়েছে, “অভিযুক্ত যত প্রভাবশালীই হোক, আইন সবার উপরে। এই মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলা ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মৃত কিশোরের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আত্মহত্যার কারণ, অভিযুক্তদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্ররোচনা, সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।