ওই ঘটনার পর বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ৭১ বছর বয়সি প্রবীণ আইনজীবীকে সাসপেন্ড করলেও তিনি এই কাজের জন্য ক্ষমা চাইতেও নারাজ।

প্রধান বিচারপতির বিষ্ণু নিয়ে মন্তব্যে তিনি খুবই আঘাত পেয়েছিলেন।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে নিশানা করে জুতো ছুড়তে যাওয়া প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ কিশোর একটুও অনুতপ্ত নন। ওই ঘটনার পর বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ৭১ বছর বয়সি প্রবীণ আইনজীবীকে সাসপেন্ড করলেও তিনি এই কাজের জন্য ক্ষমা চাইতেও নারাজ। মঙ্গলবার তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বিষ্ণু নিয়ে মন্তব্যে তিনি খুবই আঘাত পেয়েছিলেন। বিচার বিভাগের একাংশ সনাতন ধর্ম নিয়ে একপেশে মনোভাব প্রকাশ করেন বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি আরও বলেন, আমি যে কাজ করেছি তা কোনও রাগবশত নয়। হিন্দু ধর্ম নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন তাতে মনের দুঃখ থেকে এই কাজ করেছি। তাই আমার মধ্যে কোনও অনুতাপ বা অনুশোচনা নেই। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতি গাভাই হিন্দু সনাতন ধর্মকে অপমান করেছেন বলে তাঁর দাবি। তিনি বিষ্ণুর বিগ্রহ নিয়ে সকলের সামনে মজা করেছেন।
তাঁর আরও অভিযোগ, অন্য ধর্ম নিয়ে যখন মামলা চলে, তখন বিচার ব্যবস্থার আচরণ অন্য রকম হয়। অথচ যখন হিন্দু ঐতিহ্য-পরম্পরা নিয়ে মামলা আসে, তখন আদালত কঠোর ভূমিকা নিয়ে থাকে। আমাদের সনাতন ধর্ম যখন আদালতের চৌকাঠে আসে, যেমন জালিকাট্টু, দহিহান্ডির উচ্চতা অথবা ছোটবড় কেস আসে, সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের নির্দেশ বা রায় দিয়ে থাকে। আমি এতে খুবই দুঃখিত এবং ওদের এরকম করা উচিত নয় বলেই মনে করি।
কিশোর স্পষ্টত প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বলেন, প্রধান বিচারপতিকে ভাবতে হবে তিনি যখন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসে রয়েছেন তাঁকে মিলর্ড শব্দের অর্থ অনুধাবন করতে হবে। সেই মতো নিজের সম্মান বজায় রাখতে হবে। আপনি মরিশাসে গিয়ে বলুন তো দেশ বুলডোজারের উপর ভিত্তি করে চলতে পারে না। আমি সিজেআই এবং আমার বিরুদ্ধাচারণ করছেন যাঁরা, তাঁদের বলতে চাই, যাঁরা সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করে রেখেছেন, তাঁদের উচ্ছেদ করতে বুলডোজার চালিয়ে যোগী আদিত্যনাথ কি অন্যায় কিছু করছেন?
নিজের সাফাই দিয়ে কিশোর বলেন, আমি কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। আমার পিছনে ওদের কারও মদতও নেই। আজকের দিন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধঘটিত মামলা নেই। আমি হিংসার ঘোরতর বিরোধী। তাতেই আপনারা বুঝতে পারবেন যে, কীভাবে কেন একজন অহিংস, সহজ-সরল, সাধারণ, সৎ মানুষ এরকম কাজ করবে? এর পিছনে নিশ্চই কোনও কারণ থাকবে।
প্রধান বিচারপতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনি আবেদনকারীর আর্জি খারিজ করতেই পারেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে মজা করবেন কেন? আমি যা করেছি তা নিয়ে ভয় পাই না, যা ঘটেছে তা নিয়ে কোনও অনুশোচনাও নেই আমার। যদিও এক প্রবীণ আইনজীবীর এহেন আচরণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী থেকে সমস্ত স্তরের, সমস্ত দলের তরফ থেকে নিন্দা করা হয়েছে।