রাহুল গান্ধী অবশ্য (Vote Chori) দাবি করেছেন, হরিয়ানার ভোটে প্রায় ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোট পড়েছে— অর্থাৎ প্রতি আটজন ভোটারের মধ্যে একজন নকল!

বাঁ দিকে আসল ভোটার মুনেশ দেবী
শেষ আপডেট: 6 November 2025 16:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ব্রাজিলিয়ান মডেল’ (Brazilian Model) বিতর্কে কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মহিলা দাবি করলেন, যে নকল ভোটার কার্ডটি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) প্রকাশ করেছিলেন— সেটি তাঁর নয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা, মুনেশ নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমার কার্ডে আমারই ছবি আছে। রাহুলজি যেটা দেখিয়েছেন, ওটা আমার নয়। আমি নিজে ভোট দিয়েছি, জানি না ওই ছবিটা কার।”
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, হরিয়ানার (Haryana) রাই আসনে এক ভোটার আইডি কার্ড— যেখানে এক ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি দিয়েই ২২ বার ভোট পড়েছে। ওই আসনে বিজেপির কৃষ্ণা গহলাওয়াত অল্প ব্যবধানে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী ভাগবান আনতিলকে হারিয়ে।
বিজেপি নেতা কিরণ রিজিজু (Koren Rijiju) পাল্টা বলেন, “বিহারে ভোট শুরু হতে যাচ্ছে, তাই রাহুল গান্ধী হরিয়ানার মিথ্যে ইস্যু তুলে ধরছেন।” নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রের দাবি, হরিয়ানার ভোট পর্যালোচনার সময় কংগ্রেস কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায়নি।
রাহুল গান্ধী অবশ্য (Vote Chori) দাবি করেছেন, হরিয়ানার ভোটে প্রায় ২৫ লক্ষ ভুয়ো ভোট পড়েছে— অর্থাৎ প্রতি আটজন ভোটারের মধ্যে একজন নকল! তিনি বলেন, “এটা কেন্দ্রীয়ভাবে চালিত অপারেশন। বুথ নয়, গোটা ডেটাবেস স্তরে এই হেরফের করা হয়েছে। কমিশন চাইলে মুহূর্তে ডুপ্লিকেট ভোটার চিহ্নিত করতে পারে, কিন্তু করছে না কারণ তারা বিজেপিকে সাহায্য করছে।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে মুনেশের কার্ড দেখিয়ে বলেন, “এই মহিলার ছবি দিয়ে ২২ বার ভোট পড়েছে। নাম কখনও সীতা, কখনও সিমি, কখনও বীণা। এটা কোনও সাধারণ ভুল নয়।”
রাহুলের বক্তব্যের পর আরও বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। সোনিপতের মালিকপুর গ্রামে দেখা যায়, আগের ভোটে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম এ বার ভোটার তালিকা থেকে উধাও। এক ভোটার, অঞ্জলি ত্যাগী জানান, “আমি লোকসভা ভোটে ভোট দিয়েছিলাম, কিন্তু পাঁচ মাস পরে বিধানসভা ভোটে আমার নাম তালিকাতেই ছিল না।”
এদিকে যাঁর ছবি সেই বিতর্কিত আইডি কার্ডে ব্যবহৃত হয়েছে— সেই ব্রাজিলিয়ান মহিলার নাম লারিসা নেরি। তিনি একজন হেয়ারড্রেসার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওয় লারিসা বলেন, “ওরা আমার পুরোনো ছবি ব্যবহার করেছে। আমি তখন ১৮-২০ বছরের ছিলাম। শুনছি ভারতে ভোট নিয়ে কিছু একটা করছে! কী পাগলামি!”
ঘটনার জেরে এখন তোলপাড় ভারতের রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেস বলছে, এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করেছে। বিজেপি পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, “ভোটে হার মেনে নিতে না পেরেই কংগ্রেস এই নাটক সাজাচ্ছে।”