তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত সামগ্রির তালিকায় নামই ছিল না। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল এক কনস্টেবলের (Police Constable) ‘চুপিসারে’ হাতসাফাই।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 29 November 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত সামগ্রির তালিকায় নামই ছিল না। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল এক কনস্টেবলের (Police Constable) ‘চুপিসারে’ হাতসাফাই। নকল রোলেক্স ঘড়ি (Rolex Watch) পকেটে পুরেই ধরা পড়লেন তিনি। আর তারপরই শহর পুলিশে নতুন করে শুরু হয়েছে শৃঙ্খলা-পরীক্ষা।
ঘটনা হায়দরাবাদের (Hyderabad News) ফিল্ম নগর থানার। ২৫ নভেম্বর বাথিনি শশীকান্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। প্রতারণা ও জাল নথি তৈরির মামলায় তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান। সেখানে ভিডিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন CAR সদর দফতরে পোস্টিং থাকা কনস্টেবল শ্রীরামুলা শরন কুমার। অভিযোগ, তল্লাশির মাঝেই তিনি একটি নকল রোলেক্স ঘড়ি চুপিসারে তুলে নেন। বাজেয়াপ্ত তালিকায় তার উল্লেখ নেই।
থানার এক অন্য কনস্টেবলের ক্যামেরায় ধরা পড়ে পুরো ঘটনাটি। ফুটেজ পরীক্ষা করেই বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ তদন্ত। সেই সঙ্গে দায়ের করা হয় পৃথক অভিযোগ।
বর্তমানে ফিল্ম নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসারের ড্রাইভার হিসেবে থাকা কুমারকে ২৮ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়। জেরায় তিনি ঘড়িটি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলেই জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সেই ঘড়ি।
ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের সময় দায়িত্বে থাকা আরও দুই কর্মীর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রযুক্তি যতই এগোক, হাতের ঘড়ির আবেদন কিন্তু ফিকে হয়নি। বরং এখন ঘড়ি শুধু সময় দেখার উপকরণ নয়, এটি ব্যক্তিত্ব, রুচি আর সংগ্রহের অংশ। বিশেষ করে সুইস ঘড়ি নির্মাতাদের ব্র্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বেড়েছে। রোলেক্স, ওমেগা বা পাতেক ফিলিপ, এই নামগুলো আজ বিলাসবহুল পণ্য হয়ে উঠেছে।
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বিপদও, বাজারে ছয়লাপ নকল ঘড়ির। দৃষ্টিনন্দন বক্স, আকর্ষণীয় দাম আর আসলের মতো দেখতে বাহারি ডিজাইনে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে রোলেক্সের মতো ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে এই নকলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। আগের মতো সস্তা, সহজে ধরা পড়ে এমন নকল নয়। বরং অনেক নকল ঘড়িই আসলের সঙ্গে বেশ মিল রেখে তৈরি করা হচ্ছে। তবু কিছু সূক্ষ্ম জায়গায় আসল-নকল পার্থক্য ধরা পড়ে।
কিন্তু ওই পুলিশ কনস্টেবল বুঝতে পারেননি যে তিনি যে ঘড়িটি পকেটে পুরেছেন, সেটি আসলে সোনার নয়, ইমিটেশন। তল্লাশির সময় সেই ঘড়ি গায়েব করাই কাল হল তাঁর।