মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার অভিযোগ, “রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই” লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নির্দেশে অভিযান চালিয়েছে জেডিএ।"

প্রতিবেশী হিন্দুর জমি দানে নতুন আশ্রয়
শেষ আপডেট: 29 November 2025 14:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি জমি দখলের অভিযোগে এক মুসলিম সাংবাদিকের (Muslim Journalist) পৈতৃক বাড়ি রাতারাতি ভেঙে দিয়েছে জম্মু ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (জেডিএ)। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার (Omar Abdullah) অভিযোগ, “রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই” লেফটেন্যান্ট গভর্নরের নির্দেশে অভিযান চালিয়েছে জেডিএ। আর সেই বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি-ও।
৩৫ বছর আগে কাশ্মীরের ডোডার ভালেসা থেকে সপরিবারে জম্মুর নারওয়ালে এসে বাড়ি গড়েছিলেন গুলাম কাদির দাইং। উপত্যকায় তখন জঙ্গি দাপট চরমে— প্রায় সব মুসলিম পরিবারের ছেলেদের জোর করে দলে টেনে নিয়ে যেত জঙ্গিরা। ১২ বছরের ছেলেকে বাঁচাতে গুলাম পালিয়ে এসেছিলেন জম্মুতে। সেখানকার নারওয়ালের এক টুকরো জমিতে উঠে এসেছিল দাইং পরিবারের একতলা পৈতৃক আশ্রয়। সেই বাড়িই কয়েক দিন আগে গুঁড়িয়ে দেয় জেডিএ।
এদিকে, গুলামের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর হিন্দু প্রতিবেশী কুলদীপ শর্মা। প্রায় এক কাঠা জমি দান করেছেন তিনি। কুলদীপের কথায়, “আমি আমার ভাইকে রাস্তায় নামতে দেব না। জেডিএ ওর তিন মার্লা জমি কেড়ে নিয়েছে। আমি গুলামকে পাঁচ মার্লা জমি দিচ্ছি। এখানেই ওরা থাকবে।”
কুলদীপের এই মানবিকতায় আপ্লুত দাইং পরিবারের সদস্যরা। তবে তাঁর এই পদক্ষেপে আরও অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপি-র অন্দরে।
দাইং পরিবারের ভাঙা বাড়ি দেখতে নিজে যান রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রবিন্দর রায়না। তাঁর দাবি, “দাইংদের বাড়ি ভাঙার নির্দেশ লেফটেন্যান্ট গভর্নর দেননি, দিয়েছে ওমর আবদুল্লা সরকার।” পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতির তাপমাত্রা আরও বাড়ে।
গুলামের ছেলে আফরাজ স্থানীয় এক সংবাদপোর্টালের সাংবাদিক। কিছু দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশের ‘অপরাধে’ জেডিএ ভেঙে দিয়েছিল তাঁর নিজের বাড়িও। তারপর বাবার বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে সীমান্তপার ড্রাগ চক্রে সেনার যোগসাজশ নিয়ে প্রতিবেদন করার জন্য তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। ফলে বাবার বাড়ি ভাঙার ঘটনাতেও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যমূলক পদক্ষেপ দেখছেন অনেকে।
সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তাঁর কথায়, “সরকারি জমি দখল কেউ সমর্থন করে না। কিন্তু জেডিএ বেছে বেছে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বাড়িই ভাঙছে। নির্বাচিত সরকারকে অপদস্থ করার জন্যই এই চক্রান্ত।”
তিনি অভিযোগ করেন, “রাজভবনের পোস্টিং করা পুলিশ সরকারের অনুমতি ছাড়াই মানুষের বাড়ি ভেঙে ফেলছে।”
জেডিএ-র কাছ থেকে সব বেআইনি দখলদারদের পূর্ণ তালিকাও চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত ৩৫ বছর ধরে নারওয়ালের হিন্দু প্রতিবেশীদের জমিতে একটি ছোট মুদিখানা চালিয়ে আসছেন গুলাম। স্মৃতিচারণায় তিনি বলেন, “ছেলেটা তখন ছোট হলেও দেখতে বড়র মতো। যে কোনও দিন জঙ্গিরা ধরে নিয়ে যাবে— এই ভয়েই পালিয়ে এসেছিলাম। তখনও হিন্দু প্রতিবেশীরাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আজও তারাই আশ্রয় দিলেন।”
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা চলছে বটে, কিন্তু মানবিকতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুলদীপ শর্মা— যা এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে উপত্যকা জুড়ে।