ইসলামাবাদ আগের মতোই অভিযোগ তুলেছে যে, ভারত নাকি বালুচিস্তানে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। দিল্লি বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানই সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 November 2025 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (New Delhi Red Fort) সামনে গত ১০ নভেম্বর যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Car Blast) ঘটেছিল, সেই ঘটনার দায় সরাসরি পাকিস্তানের কিনা, সে প্রশ্ন উঠে গেল। পাকিস্তানেরই (Pakistan) এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যে শোরগোল।
ভারতের পড়শি দেশের দিকেই কার্যত বল ঠেলে দিয়েছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) সদ্যপ্রাক্তন প্রধান চৌধুরি আনোয়ারুল হক। পিওকে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে 'লালকেল্লা (Red Fort) থেকে কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) জঙ্গল পর্যন্ত আঘাত করা হয়েছে' এবং তার কৃতিত্ব পাকিস্তানকেই দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, 'আমাদের সাহসী যোদ্ধারাই এই হামলা সফল করেছে।'
ইসলামাবাদ (Islamabad) এই মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ বলেছেন, ভারত-সহ অঞ্চলে উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে 'সর্বাত্মক যুদ্ধ' পরিস্থিতিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার (Pakistan Govt) জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ সতর্কতায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামাবাদ আগের মতোই অভিযোগ তুলেছে যে, ভারত নাকি বালুচিস্তানে (Balochistan) অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। দিল্লি বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানই সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলি লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরিত গাড়িটি - অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েলে ভরা একটি হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) এবং পুরো মডিউলকে জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার মৌলবী ইরফান আহমেদ নামের এক ধর্মীয় নেতাই ১০ সদস্যের এই সেলটি গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল জইশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে। ইরফানই আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের (Al Falah Medical College) কয়েকজন তরুণ চিকিৎসককে চিহ্নিত ও প্রভাবিত করেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডাঃ উমর মহম্মদ, গাড়িবোমায় নিহত আত্মঘাতী হামলাকারী।
মডিউলের আর যাঁরা ছিলেন, ইরফানসহ তাঁদের অধিকাংশকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে পাকিস্তানভিত্তিক জইশ অপারেটিভ উমর-বিন-খাত্তাব ওরফে হানজুল্লাই ছিল এই হামলার অন্যতম হ্যান্ডলার।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জইশ বিভিন্ন জায়গায় ‘ফিদায়েঁ’ হামলার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছ থেকে ২০,০০০ পাকিস্তানি টাকা চাওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, ডিজিটাল পেমেন্ট (Digital Payment) অ্যাপ সাদাপে ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে। এমনকী মহিলাদের নেতৃত্বে বিশেষ হামলার পরিকল্পনাও নাকি চলছে।
জইশের মহিলাবাহিনী, জামাত-উল-মুমিনাত-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া। লালকেল্লা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন ডাঃ শাহীন সাইদ, কোডনেম ‘ম্যাডাম সার্জন’, সেই ইউনিটের সদস্য বলেই ধারণা।
গোয়েন্দাদের মতে, লস্কর ও জইশ - দুই সংগঠনই জম্মু-কাশ্মীরে নতুন ধারাবাহিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুই সংগঠনের কাঠামো, কাজের ধরন ও মতাদর্শ নিয়ে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই পৃথক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।