ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 April 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন স্বামী এবং জোর করে তাঁকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিলেন। 'রিপলিং' নামে সিঙ্গাপুরের বহু বিলিয়ন ডলারের একটি সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রসন্ন শঙ্করের (Prasanna Shankar) বিরুদ্ধে ফের সামনে এল বিস্ফোরক অভিযোগ।
সংবাদ সংস্থা দ্য সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রসন্নের স্ত্রী দিব্যা শশীধরের (Dhivya Sashidhar) আদালতে জমা করা নথি, ইমেল, ছবি এবং অন্যান্য রেকর্ড সামনে আসতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। এছাড়াও ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ধিব্যা অভিযোগ করেন, কীভাবে তাঁর স্বামী তাঁকে লাগাতার যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন। এমনকি বাইরে থেকে লোক ধরে এনে জোর করে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এবং নগ্ন ভিডিও প্রচারের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
দিব্যার আরও অভিযোগ তাঁর স্বামী প্রসন্ন বিশাল সম্পত্তির কর ফাঁকি দিতে তাঁকে এবং তাঁদের ৯ বছরের ছোট ছেলেকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে টেনে নিয়ে যেতেন। এর আগে, প্রসন্ন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছিলেন ধিব্যার সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের বিবাহিত জীবন এবং তাঁদের নয় বছরের ছেলের কথা। পাশাপাশি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন এবং অনুপ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে একাধিক মেসেজ এবং হোটেল বুকিংয়ের সমস্ত স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, দিব্যার অভিযোগ, প্রসন্ন প্রসব যন্ত্রণা সত্ত্বেও তাঁকে যৌনমিলনে বাধ্য করেছিলেন এবং তাতে রাজি না হওয়ায় নিজের স্ত্রীকেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিব্যার অভিযোগ, প্রসন্ন তাঁকে বলত, 'দেখো, যৌনতা আমার প্রাথমিক চাহিদা। যে কোনও অবস্থায় তোমাকে এটা করতেই হবে। তুমি কতটা যন্ত্রণার মধ্যে আছো, সেটা বড় ব্যাপার নয়।'
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে দিব্যাকে লেখা প্রসন্নর একটি ইমেল দেখে জানা যায় তিনি বেশ কয়েকটি যৌন কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি এবং টাকার অঙ্ক জানতে চেয়েছিলেন। যদিও নিজের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে প্রসন্নের দাবি, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ এবং ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তের নামে তাঁকে হেনস্থা করছে চেন্নাই পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আদায়েরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
প্রসন্নের কথায়, চেন্নাই পুলিশের থেকে রীতিমতো ‘পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে’ তাঁকে। অন্য দিকে, কোনও এফআইআর ছাড়াই তাঁর ফোনের টাওয়ারের অবস্থান, গাড়ি, ইউপিআই এবং আইপি অ্যাড্রেসের উপর নজর রাখছে পুলিশ। হেনস্থা এমনই চরমে পৌঁছেছে তিনি কাজেও মন দিতে পারছেন না বলে দাবি। প্রসন্নের আরও দাবি, একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী। বিষয়টি জানতে পেরেই প্রসন্ন বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন। স্ত্রীকে কত খোরপোশ দেওয়া হবে, দু’জনে মিলে তা নিয়ে আলোচনাও করেন। তবে অভিযোগ, টাকার অঙ্কে সন্তুষ্ট হননি দিব্যা। তখনই তিনি প্রসন্নের বিরুদ্ধে একটি ভুয়ো অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি যুবকের।
প্রসন্নের পাল্টা অভিযোগ, স্ত্রী দিব্যাই তাঁদের ন’বছর বয়সি ছেলেকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছেন, যার ফলে তাঁকে বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে শিশু অপহরণের মামলা করতে হয়েছে। অথচ মার্কিন আদালতে ছেলের হেফাজত নিয়ে দম্পতির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি বা মউ স্বাক্ষর হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, স্ত্রীকে এককালীন ন’কোটি টাকা ছাড়াও প্রতি মাসে প্রায় ৪.৩ লক্ষ টাকা দিতে হত। অথচ সেই চুক্তি মানেননি দিব্যা, এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। তারপরেই সমাজমাধ্যমে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন যুবক।