স্ত্রীকে সন্দেহের বশে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আগুনে পড়ে যায় মেয়েও, নাল্লাকুন্তা কাণ্ডে আতঙ্ক হায়দরাবাদে।

স্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত
শেষ আপডেট: 26 December 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর থেকেই সন্দেহ, মানসিক অত্যাচার। অবশেষে স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দিলেন ব্যক্তি। মাকে পুড়তে দেখে ঝাঁপ দিলেন তাঁদের এক সন্তানও। মহিলার মৃত্যু হয়েছে, বাচ্চাটিকে কোনওরকমে বাঁচানো হয় কিন্তু তাঁর মানসিক অবস্থা বর্তমানে ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমন পরিস্থিতি দেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্ত। তাঁকে খুঁজছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের নাল্লাকুন্তা (Nallakunta) এলাকায়। মৃতের নাম ত্রিবেণী (Triveni)। অভিযুক্ত স্বামী ভেঙ্কটেশ (Venkatesh)। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন নিজেরা। এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতে শুরু করেন ভেঙ্কটেশ। সেই সন্দেহ থেকেই প্রায়শই ঝগড়া, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত বলে জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা।
লাগাতার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি ত্রিবেণী বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন মাঝে। সেখান থেকে ভেঙ্কটেশ তাঁকে ফিরিয়ে আনেন। আশ্বাস দেন, সব বদলে যাবে, আর কোনও অশান্তি হবে না। কিন্তু সেই ফেরাটাই যে তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি।
২৪ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বড়দিনের আগের দিন সন্ধ্যায় ফের দু’জনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় দুই সন্তানই ঘরে উপস্থিত ছিল। ঝগড়ার মাঝে ভেঙ্কটেশ ত্রিবেণীর উপর চড়াও হন। প্রথমে মারধর, তারপর আচমকাই গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঝলসে যান ত্রিবেণী।
মাকে বাঁচাতে ছুটে যায় তাঁদের মেয়ে।অভিযুক্ত ভেঙ্কটেশ মেয়েকেও আগুনের দিকে ঠেলে দেন এসব দেখে। শিশুটির চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ত্রিবেণীর মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। মেয়েটিকে কোনওক্রমে আগুন থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে (Hospital) ভর্তি করা হয়। তার শরীরে সামান্য দগ্ধ ক্ষত থাকলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছে।
ঘটনার পরই ভেঙ্কটেশ চম্পট দেয়। পুলিশ (Police) জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে খুন (Murder) ও শিশু নির্যাতনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে ঘটনাটিকে নিয়ে। অনেকেরই বক্তব্য, ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে ঘটে চলা পারিবারিক হিংসা (Domestic Violence) বারবার এমন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।
এলাকার এক প্রতিবেশীর কথায়, “ওদের ঝগড়া নতুন কিছু ছিল না। কিন্তু কেউ ভাবেনি এমনটা হবে। বাচ্চাদের সামনে এই কাণ্ড—এটা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।”