কোয়েম্বাটুরে মহিলা হস্টেলে ঢুকে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালেন ব্যক্তি। পরে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ‘স্টেটাস’ দিলেন। এত নৃশংসতা কেন?

সেই সেলফি
শেষ আপডেট: 1 December 2025 09:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্পর্ক ঠিকঠাক চলছিল না বহুদিন ধরে। আলাদা থাকতে শুরু করেন স্বামীর থেকে। তিনিই মহিলাকে হস্টেলে ঢুকে খুন করলেন রবিবার দুপুরে। ঘটনাটি তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের। মহিলা হস্টেলে এভাবে একজন পুরুষের ঢুকে পড়া ও খুনের মতো ঘটনায় আতঙ্কে সেখানকার সকলে। চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল, খুনের পর মহিলার দেহের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিয়েছেন অভিযুক্ত।
ঠিক কী হয়েছিল?
পুলিশ জানাচ্ছে, শ্রীপ্রিয়া তিরুনেলভেলির বাসিন্দা, কোয়েম্বাটুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। অভিযোগ, রবিবার দুপুরে হঠাৎই হস্টেলে পৌঁছন তাঁর স্বামী বলামুরুগন। জানান স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা। কারও সন্দেহ হয়নি, তাঁকে ভিতরে যেতে দেওয়া হয় কিন্তু তাঁর জামার ভিতরে লুকোনো ছিল একটি ধারালো অস্ত্র, তা কারও নজরে আসেনি।
হস্টেলের ভিতরে স্বামীকে দেখেই বিরক্ত হন শ্রীপ্রিয়া, কথা কাটাকাটি হয়। সেই সময় আচমকা বলামুরুগন জামার ভিতর থেকে দা বার করে তাঁকে কোপাতে শুরু করেন।
খুনের পর সেলফি
স্ত্রীকে খুন করার পর ওই ব্যক্তি দেহের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলেন এবং নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে পোস্ট করে লেখেন, শ্রীপ্রিয়া নাকি তাঁকে “প্রতারণা (Betrayal)” করেছেন। এ সময় হস্টেলের মহিলারা আতঙ্কে চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
অভিযুক্ত পালানোর কোনও চেষ্টা করেননি। ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে যায় কোয়েম্বাটুর পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অস্ত্রটিও পাওয়া গেছে সেখান থেকেই। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, বলামুরুগন সন্দেহ করতেন শ্রীপ্রিয়ার অন্য কোনও সম্পর্ক রয়েছে। আর তাই এই চরম সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ
ঘটনার পরই তামিলনাড়ুর রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে সামনে এনে রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা (Law and Order) নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তামিলনাড়ুতে সম্প্রতি এটা ছাড়াও একাধিক নির্যাতন, খুন ও যৌন অপরাধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিয়েই সরব হন বিরোধীরা।
ডিএমকে সরকারের সাফাই, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল। রাজ্য সরকার ও পুলিশ দাবি করছে, প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বলামুরুগন পুলিশ হেফাজতে। তাঁকে জেরা করে হত্যার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য জোগাড়ের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। শ্রীপ্রিয়ার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। হস্টেল চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।