পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের সহকর্মীদের সঙ্গে মেহকের ঘন ঘন ফোনালাপ নিয়ে আপত্তি ছিল অনশুলের। প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড।

শেষ আপডেট: 18 February 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপনের (murder after valentines day celebration) ঠিক পরদিনই শিহরণ জাগানো হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হল হরিয়ানার ঝজ্জর জেলা (Haryana crime news)। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুন (pregnant wife murder) এবং ডাকাতির ঘটনা বলে চালানোর (robbery cover up crime) অভিযোগ উঠেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট স্বামীর বিরুদ্ধে। মাত্র চার মাসের দাম্পত্য জীবনে কী এমন হল যে পরিকল্পনা করে খুন করলেন স্বামী, সেই নিয়ে তদন্ত শুরু হতেই উঠে এল সম্পূর্ণ অন্য এক ঘটনা।
নিহত মেহক একটি ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড (Husband kills pregnant wife Haryana)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কের সহকর্মীদের সঙ্গে মেহকের ঘন ঘন ফোনালাপ নিয়ে আপত্তি ছিল অনশুলের। জানা গিয়েছে, তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বাও ছিলেন। ২০২৫ সালেই তাঁদের বিয়ে হয়।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। তারপরই পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অনশুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে তাঁর বাপের বাড়ি হানসি থেকে গুরুগ্রাম নিয়ে যাচ্ছিলেন অনশুল। পথে বদলি এলাকায় একটি গ্রামের কাছে ঘটনাটি ঘটে। এদিকে, ঠিক আগেই দম্পতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন করেছিলেন।
খুন ঢাকতে সাজানো হয় ডাকাতির গল্প
পুলিশ প্রথমে হেল্পলাইন ১১২ নম্বরে একটি ফোন পায়। জানানো হয়, সদ্য বিবাহিত এক দম্পতির উপর হামলা হয়েছে এবং ডাকাতির সময় মহিলাকে খুন করা হয়েছে। পরে একটি খালের ধারে মেহকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে অনশুল দাবি করেন, কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁদের গাড়ি থামিয়ে হামলা চালায়, স্ত্রীকে হত্যা করে এবং গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
বদলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার বলেন, অভিযুক্ত জানিয়েছিল, কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের গাড়ি থামিয়ে মারধর করে, স্ত্রীকে খুন করে এবং গাড়ি ছিনতাই করে পালায়।
কিন্তু তদন্তকারীরা দ্রুতই তাঁর বয়ানে অসংগতি খুঁজে পান। জেরার সময় তিনি বারবার পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়েন এবং খুনের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল খুনের
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে হত্যার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা হয়েছিল। সঙ্গে কাঁচি নিয়ে গিয়েছিল সে। জেরায় সে নাকি জানিয়েছে, প্রথমে শ্বাসরোধ করে মহককে হত্যা করা হয়, তারপর কাঁচি দিয়ে গলা কাটা হয়।
মেহকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে এবং ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা জানার জন্য রিমান্ডে নেওয়া হবে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক।