গত সপ্তাহে ইরফান আহমেদের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তিনি পাকিস্তান-সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। এখন উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

মৌলবি ইরফান আহমেদ
শেষ আপডেট: 18 November 2025 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লালকেল্লার (Red Fort) সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের (Car Blast) নেপথ্যে থাকা যে চক্রটিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলি ‘হোয়াইট কলার মডিউল’ (White Collar Module) নামে চিহ্নিত করেছে, তাদের পুরো দলটিই একসময় পেশায় চিকিৎসক (Doctors) ছিলেন। পরে চরমপন্থায় জড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের মেডিক্যাল লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই দলটিকে সন্ত্রাসে যুক্ত করার নেপথ্যে রয়েছেন কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার বাসিন্দা এক মৌলবি - ইরফান আহমেদ (Cleric Irfan Ahmed)।
গত সপ্তাহে ইরফান আহমেদের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে। তিনি পাকিস্তান-সমর্থিত (Pakistan) জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানা যায়। এখন উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ হাসপাতালে (Al Falah Hospital) কর্মরত (প্রাক্তন) চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের সঙ্গে আহমেদের প্রথম সাক্ষাতের পরই ওই হাসপাতালই সন্ত্রাসী চক্রের মূল ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
শাকিলের ফরিদাবাদের ভাড়া নেওয়া দু’টি ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৯৫০ কেজি বিস্ফোরক, যার মধ্যে ছিল গাড়ি-বোমায় ব্যবহৃত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-ফুয়েল অয়েল মিশ্রণ। ওই বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই উমর-উন-নবি, যিনি উমর মহম্মদ নামেও পরিচিত, দিল্লির রাস্তায় হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) চালিয়ে লালকেল্লার সামনে তা উড়িয়ে দেন।
২০২৩ সালে শ্রীনগরের (Srinagar) গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে এক রোগীকে সঙ্গে নিয়ে গেলে আহমেদের সঙ্গে আলাপ হয় শাকিল ও নবির। ওই রোগীর পরিচয় বা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁর যোগ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সেই প্রথম আলাপের পর দু’বছর ধরে ফোনে ও বার্তায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন তাঁরা। গোয়েন্দাদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে আহমেদ দু’জনকেই এমনভাবে প্রভাবিত করেন যে, নবি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক ভিডিওতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ (Suicide Blast) প্রসঙ্গে শান্ত গলায় বলেন, এটি “ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা ধারণা”।
সূত্রের দাবি, শাকিল ও নবি পরে নিজেদের আরও কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন আহমেদের। টেলিগ্রামের (Telegram) একটি চ্যানেলের মাধ্যমে তিনি তাঁদের কাছে চরমপন্থী ভাবাদর্শ ছড়াতে থাকেন। দক্ষিণ কাশ্মীরে জইশ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থাও করেন।
জইশের ওই সন্ত্রাসীদের থেকেই ‘জঙ্গি ডাক্তার’-দের হাতে আসে দুটি অ্যাসল্ট রাইফেল। তার একটি উদ্ধার হয় আর-এক সদস্য শাহিনা সইদের মারুতি সুইফট ডিজায়ার থেকে। তাকে সংগঠনের মহিলাদের শাখা—জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। দ্বিতীয় রাইফেলটি উদ্ধার হয় শ্রীনগরের জিএমসি-র লকার থেকে, যা ব্যবহার করতেন এই চক্রের আর-এক সদস্য আদিল আহমদ রাথার।
রাথারের গতিবিধিই সন্ত্রাসী চক্রটিকে ধরার প্রাথমিক সূত্র দেয়। তাকে নওগামে জইশপন্থী পোস্টার লাগাতে দেখা গিয়েছিল সিসিটিভিতে। পরে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে বিস্ফোরকের হদিস, শাকিলের ভূমিকা এবং শাহিনার পরিচয়। যদিও এর মধ্যেই লালকেল্লার বিস্ফোরণ ঠেকাতে পারেনি পুলিশ।
তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা আরও এক ভয়াবহ বাস্তব তুলে ধরেছে। চরমপন্থী সংগঠনগুলি এখন উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের টার্গেট করছে।