পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর তিন জঙ্গির খোঁজে দফায় দফায় গোয়েন্দা অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রায় তিন মাসের তল্লাশি অভিযানের পর ৩ ঘণ্টায় সাফল্য মিলেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 July 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে 'অপারেশন মহাদেব' অভিযান (Operation Mahadev) করে পহেলগাম হামলার (Pahalgam Attack) অন্যতম মূল তিন মাথাকে খতম করেছে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যেই এই অভিযানে সাফল্য লাভ করে তারা। কিন্তু ঠিক কীভাবে সফলতা এল? জানা গেছে, ধাপে ধাপে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরই ওই জঙ্গিদের নিধন করতে পেরেছে সেনাবাহিনী।
পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর তিন জঙ্গির খোঁজে দফায় দফায় গোয়েন্দা অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রায় তিন মাসের তল্লাশি অভিযানের পর ৩ ঘণ্টায় সাফল্য মিলেছে। ধাপে ধাপে কীভাবে সাজানো হয়েছিল জঙ্গি ধরার এই অপারেশন — জেনে নিন।
১. জঙ্গিদের ট্র্যাক করা
২২ এপ্রিল পহেলগামে জঙ্গি হামলার রাতেই জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডাকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। পরদিন আবারও বৈঠকে বসেন সেনা, সিআরপিএফ, বিএসএফ, ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের শীর্ষকর্তারা। সিদ্ধান্ত হয় — এই তিন জঙ্গিকে কোনও অবস্থাতেই পাকিস্তানে পালাতে দেওয়া যাবে না। তাদের খোঁজ পেতে তৎপর হয় গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
২. গোয়েন্দা নজরদারি: দু-মাসের প্রস্তুতি
মে মাসের ২২ তারিখ গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে যে, জঙ্গিরা দাচিগাঁও অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিজেদের তৈরি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জঙ্গিদের সিগন্যাল ট্র্যাক (Signal Tracking) করতে শুরু করে। জুন-জুলাইজুড়ে সেনা ও গোয়েন্দারা পায়ে হেঁটে দুর্গম এলাকায় খোঁজ চালাতে থাকেন। শীত ও দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে চলে টানা নজরদারি।
৩. এনআইএ-র ৩ হাজার ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ
পহেলগাম হামলার দায় লস্কর-ই-তৈবার (Laskar-e-Taiba) নেওয়ার পরই তদন্তের দায়িত্ব পায় এনআইএ (NIA)। ১ হাজার ৫৫ জন মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা, প্রায় ৩ হাজার ঘণ্টা সময় নিয়ে। পর্যটক, পনিওয়ালা, দোকানদার, স্থানীয় মানুষ — সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সবকিছু ভিডিওতে রেকর্ড করা হয়।
৪. দুই কাশ্মীরি নাগরিকের গ্রেফতারি
জানা যায়, বাশির ও পারভেজ নামে দু’জন স্থানীয় ব্যক্তি হামলার পরদিন জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, ২১ এপ্রিল রাত ৮টা নাগাদ তিনজন জঙ্গি পৌঁছেছিল বৈসরন উপত্যকা থেকে ২ কিমি দূরে। সেখানেই তারা খেয়েছিল এবং কিছু খাবার, নুন, মশলা সঙ্গে নিয়েছিল। পরে এই দু’জনকেই গ্রেফতার করে এনআইএ।
৫. সেনার অ্যাকশন: অপারেশন ‘মহাদেব’
২২ জুলাই সেনা সেন্সরের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় — জঙ্গিরা দাচিগাঁওয়ে লুকিয়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালায় সেনার ৪ প্যারা স্পেশাল ফোর্স, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পাঁচজন হিউম্যান অ্যাসেটও পাঠানো হয়। অবশেষে সোমবার তিন জঙ্গিকে ঘিরে খতম করা হয় — এই অভিযানেই মারা যায় পহেলগাম হামলায় অভিযুক্ত হাবিব তাহির, জিবরান এবং লস্করের শীর্ষ নেতা হাসিম মুসা।
৬. বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ: বুলেট মিলিয়ে নিশ্চিয়তা
মৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি মার্কিন এম-৯ রাইফেল ও দুটি একে-৪৭। এগুলি পাঠানো হয় চণ্ডীগড়ের ফরেনসিক ল্যাব (CFSL)-এ। পহেলগামের হামলা স্থল থেকে পাওয়া কার্তুজের খোলের সঙ্গে মেলে এই অস্ত্রের গুলি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, ছ’জন বিজ্ঞানী ভোর ৪টে ৪৬ পর্যন্ত পরীক্ষা চালিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হন যে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রই ব্যবহার হয়েছিল ওই হামলায়।