২৫ নভেম্বর মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া ধ্বজা উড়িয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রথম ধাপের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। ধ্বজা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাম মন্দির তৈরিতে কত খরচ?
শেষ আপডেট: 27 November 2025 16:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৫ নভেম্বর মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া ধ্বজা উড়িয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রথম ধাপের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। ধ্বজা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গতবছর অর্থাৎ ২০২৪-এর ২২ জানুয়ারি মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাঁচ বছর আগে ২০২০-র ৫ অগস্ট মন্দিরের শিলান্যাস করেন তিনি। আগের বছর, ২০১৯-এর ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থান বলে রায় দেয়। সেই সঙ্গে ওই জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয় শীর্ষ আদালত। অবসান ঘটে সাড়ে পাঁচশো বছরের মন্দির-মসজিদ আইনি বিবাদের। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্দিরের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে ছিল প্রাচীন বাবরি মসজিদ।
আদালত ওই একই রায়ে অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করতে বলে। সেইমতো অযোধ্যা জেলার ধন্যিপুরে বরাদ্দ হয়েছে মসজিদের জমি। মসজিদের প্ল্যান অনেক আগেই তৈরি হয়ে গেছে। ২০২৩-এর ২৬ জানুয়ারি ওই জমিতে মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানও হয়ে গিয়েছে। তবে একটি ইটও গাঁথা হয়নি। মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিরা একাধিকবার জানিয়েছেন পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তারা কাজ শুরু করতে পারছেন না। তবে মসজিদ যেদিনই তৈরি হোক না কেন তার নাম বাবরি রাখা হবে না এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য কোন বিদেশি শাসকের নামে আজকের ভারতে তীর্থক্ষেত্র তৈরি হতে পারে না। তাই নতুন মসজিদের গঠনশৈলী ও বাবরি মসজিদের মতো হবে না। এছাড়া বরাদ্দ জমিতে মসজিদের পাশাপাশি থাকবে শিক্ষা কেন্দ্র, গবেষণা কেন্দ্র এবং উন্নত মানের হাসপাতাল, পড়ুয়াদের হস্টেল ইত্যাদি।

অযোধ্যার ধন্যিপুরে মসজিদের জন্য বরাদ্দ জমি ফাঁকাই পড়ে আছে
অন্যদিকে, শীর্ষ আদালতের রায়ের পরই নতুন রাম মন্দির তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয় ২০২০-র ৫ অগস্টের পর থেকে। সেই হিসাবে রাম মন্দির তৈরিতে সময় লাগল পাঁচ বছর। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অযোধ্যায় সদ্য তৈরি রাম মন্দির যে গঠনশৈলী অনুসরণ করা হয়েছে তাতে আরও অনেক বেশি সময় লাগতে পারত। অতিরিক্ত সময়ে না লাগার বড় কারণ হল রাম মন্দিরের মডেল এবং নির্মাণ সংক্রান্ত প্রাথমিক ইঞ্জিনিয়ারিং কাজকর্ম সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার আগেই সেরে রাখা হয়েছিল। মন্দিরের প্ল্যান নতুন করে তৈরি করতে হয়নি। দেশের কয়েকজন নামজাদা আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট মিলে ওই কাজ ছেড়ে রেখেছিলেন।
অযোধ্যার রাম মন্দির তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, মন্দিরটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ১৮০০ কোটি টাকা। দেশ- বিদেশের কয়েক লাখ মানুষ এই অর্থ দান করেছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই টাকাও শীর্ষ আদালতের রায় ঘোষণার আগেই দিতে শুরু করেছিলেন বহু ভক্ত। সেই অর্থ দিয়ে মন্দির নির্মাণের পাথরসহ নানা সামগ্রী দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনে অযোধ্যায় করসেবকপুরমে মজুদ করা হয়েছিল।
করসেবকপুরম হল অযোধ্যায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রধান আখড়া। ১৯৮৯-এ পরিষদ রাম মন্দির নির্মাণের কর্মসূচি গ্রহণের পর থেকে অযোধ্যায় গোটা দেশ থেকে রাম শিলা জড়ো করা শুরু করেন রামভক্তেরা।
ট্রাস্ট জানিয়েছে, প্রায় চার হাজার প্রযুক্তিবিদ ও সাধারণ কর্মী মিলে অযোধ্যায় নতুন রাম মন্দির নির্মাণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রুরকির সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং আইআইটি দিল্লি, মুম্বই, গুয়াহাটি ও চেন্নাইয়ের ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টরা ছিলেন।
ট্রাস্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দির নির্মাণের একপর্যায়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল অদূরে বয়ে চলা শতদ্রু নদীর জল প্রবাহের কারণে। কোন এক সময় মন্দিরের জন্য চিহ্নিত জমির দিয়ে শতদ্রু প্রবাহিত হতো বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। মন্দিরের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হলে এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তবে উন্নত মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই সমস্যা সহজে কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে।