তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, বিমানের ভিতরে বিস্ফোরণ হলে যে যাত্রী ১১-এ নম্বর সিটে ছিলেন (সেই সিটেই বসেছিলেন রমেশ), তাঁর বেঁচে ফেরার কোনও সম্ভাবনা থাকত না।

বিশ্বাস কুমার রমেশ
শেষ আপডেট: 18 June 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি ঠিক কীভাবে বেঁচে ফিরলেন, তা এখনও বিস্ময়। অনেকে অনেক কথা বলছেন, 'মিরাকেল বয়' নিজেও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, কিন্তু তাও তাঁর জীবন-রহস্যের জট খুলতে পারছেন না অনেকে। এবার হয়তো তা একটু হলেও স্পষ্ট হবে।
আমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় (Ahmedabad Plane Crash) ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে শুধুমাত্র বেঁচে গেছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ (Vishwas Kumar Ramesh)। তিনি ছিলেন এমন এক সিটে যা কেউ পছন্দই করে না - ১১এ। তবে রমেশের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে ওই আসনটাই। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসার পর টানা ৫ দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোর-রাতে তিনি ছাড়া পেয়েছেন। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, আচমকা তাঁর সিট ছিটকে যায়, তিনি বাঁ-পাশে একটু জায়গা পেয়েছিলেন তাই বেরিয়ে আসতে পারেন। এখন সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে, কীভাবে বেঁচে গেলেন বিশ্বাস রমেশ।
বিমানবন্দর লাগোয়া জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেলে ভেঙে পড়েছিল ওই বিমান (Air India Crash)। সূত্রের খবর, বিমানের ভিতরে তখনও কোনও বিস্ফোরণ হয়নি। তবে ভেঙে পড়ার মুহূর্তে হস্টেলের দুটি বিল্ডিংয়ের মাঝের একটি সরু ফাঁকা জায়গায় ছিটকে পড়েছিলেন রমেশ। সেখানে আগে থেকেই কোনও কারণে মাটি জমিয়ে রাখাছিল। রমেশ মাটির ওপর পড়ায় প্রাণে বেঁচে যান।
তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, বিমানের ভিতরে বিস্ফোরণ হলে যে যাত্রী ১১-এ নম্বর সিটে ছিলেন (সেই সিটেই বসেছিলেন রমেশ), তাঁর বেঁচে ফেরার কোনও সম্ভাবনা থাকত না। যদিও ছিটকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও মৃত্যু হতে পারত রমেশের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচিয়ে দেয় ওই মাটিই!
দুর্ঘটনার পরই বিশ্বাসের একটি ভিডিও সামনে এসেছিল যেখানে দেখা গেছিল, তিনি হাতে ফোন নিয়ে বহাল তবিয়তে হেঁটে চলেছেন। সম্প্রতি তাঁর আরও একটা ভিডিও প্রকাশ্যে (Viral Video) এসেছে। তাতে যা দেখা যাচ্ছে তা সত্যিই অকল্পনীয়। নয়া ভিডিও দেখা যায়, জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেল ভেদ করে ঢুকে গেছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান (Air India Crash)। দাউদাউ করে জ্বলছে সেটি। গোটা এলাকা গাঢ় কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। আচমকা সেই কুণ্ডলীকৃত তাপের গোলার মধ্যে দিয়েই সাদা জামা পরে রমেশ হাতে ফোন নিয়ে বেরিয়ে আসছেন।
যারা রমেশকে উদ্ধার করেছিলেন তাঁরা জানিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আবার ওই আগুনের গোলার মধ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন তাঁকে আটকানো হয়। পরে জানা যায়, বিমানে তাঁর ভাই ছিলেন। তাঁকে বাঁচানোর আশায় ছিলেন বিশ্বাস।