ইজরায়েলের সঙ্গে ঝামেলায় যদি আমেরিকা নাক গলায়, তাহলে অপূরণীয় ক্ষতির মাশুল গুনতে হবে ট্রাম্পকে

আয়াতোল্লা আলি খামেনেই।
শেষ আপডেট: 18 June 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ প্রস্তাবের মুখের উপর জবাব দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বুধবার টেলিভিশন বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। ইজরায়েলের সঙ্গে ঝামেলায় যদি আমেরিকা নাক গলায়, তাহলে অপূরণীয় ক্ষতির মাশুল গুনতে হবে ট্রাম্পকে, পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেন খামেনেই।
তিনি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরান ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইরানকে যাঁরা চেনেন, সেইসব বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রেই জানেন, ইরানের ইতিহাস এবং দেশ ও দেশবাসী কোনওদিন কাউকে হুমকির ভাষায় কথা বলেনি। তেমনই আমরাও চাই না, কেউ আমাদের মুখের উপর দাঁড়িয়ে ভয় দেখাক। ইরান ভয়ে মাথা নিচু করতে জানে না। আমেরিকা নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুক, যদি তারা কোনও সেনা অভিযানে শামিল হয়, তাহলে এমন ক্ষতি হবে যে তা কোনওদিন পূরণ করতে পারবে না।
ইজরায়েলকে আরও একহাত বেশি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানিদের উপর শান্তি অথবা যুদ্ধ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ নিয়ে খামেনেই বলেন, অবরোধের ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।
অন্যদিকে, খামেনেইয়ের আগেই দেশের রাষ্টদূতরা এই একই বার্তা দিয়েছিলেন বিশ্বের দরবারে। দেশের মানুষ ও জমি রক্ষায় কোনও আপস, ধৈর্য দেখাবে না ইরান। ইজরায়েলের পাশাপাশি আমেরিকাকেও এদিন হুমকির সুরে ইরানি সরকার জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোথাও প্রমাণ হয়, ইজরায়েলি হামলায় ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে, তবে আমেরিকাতেও প্রত্যাঘাত করা হবে। জেনেভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দফতরে তেহরানের দূত স্পষ্ট করে বলেন, ইজরায়েলি হানায় আমেরিকার সরাসরি হাত থাকলে, তাদেরও মূল্য চোকাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রত্যাঘাতে কোনও সংযম দেখানো হবে না। যদিও প্রত্যাঘাত হবে ইজরায়েলি হানার সমতুল এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই। তাঁর কথায়, আমাদের দেশের নাগরিক, নিরাপত্তা ও জমির সুরক্ষায় আমরা কোনও বাধা মানব না। আমরা খোলাখুলি এবং কঠিনভাবেই হামলার জবাব দেব। অন্যদিকে, ইতালি ও স্পেনে কর্তব্যরত ইরানি রাষ্ট্রদূতরাও একই ভাষাতেই বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েল জোরজবরদস্তি আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করেছে, যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিমানহানা মধ্যে কোনও আলোচনা চলতে পারে না। ওরা চাইলেও ইরানও জবাব দেবে এবং আরও কঠিন ভাষায় জবাব দেবে।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেশসিয়ান বুধবার বলেন, ইজরায়েলি হামলার জবাবে জনমত তৈরি করতে দেশবাসীকে একত্র করতে হবে। স্থানীয় মানুষকে একজোট করে তাঁদের ইজরায়েলি বিরোধী জনমত গড়ে তোলায় উৎসাহ দিতে হবে। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, দেশের বাইরেও এই পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ করা জরুরি। সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।