নর্মদা নদীর তীরের (Narmada River) উর্বর পলিমাটি আর স্নিগ্ধ হাওয়ায় বেড়ে ওঠা যে কলার মিষ্টি স্বাদে মজে থাকে গোটা বিশ্ব, সেই বাড়ওয়ানির (Barwani) কলাই এখন তেতো হয়ে উঠেছে স্থানীয় চাষিদের কাছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 March 2026 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নর্মদা নদীর তীরের (Narmada River) উর্বর পলিমাটি আর স্নিগ্ধ হাওয়ায় বেড়ে ওঠা যে কলার মিষ্টি স্বাদে মজে থাকে গোটা বিশ্ব, সেই বাড়ওয়ানির (Barwani) কলাই এখন তেতো হয়ে উঠেছে স্থানীয় চাষিদের কাছে। সৌজন্যে, আরব দুনিয়া এবং সংস্থানের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক রফতানি শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় কার্যত দিশেহারা মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh Banana Farmers) হাজার হাজার কলা চাষি।
পকেটে টান, উধাও বিদেশের বাজার
সাধারণত রমজান মাসের আগে মধ্যপ্রদেশের এই বাড়ওয়ানি জেলার কলার ব্যাপক চাহিদা থাকে ইরান, ইরাক, ইজরায়েল, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিতে। কিন্তু যুদ্ধের প্রভাবে সেই রফতানি এখন তলানিতে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতি বছর এই জেলা থেকে ২০০ টনেরও বেশি কলা বিদেশে পাঠানো হয়, যার বড় অংশই যায় আরব দুনিয়ার দেশগুলিতে। এ বার সেই রফতানি শৃঙ্খল থমকে যাওয়ায় থৈ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
আকাশছোঁয়া দাম এখন তলানিতে
চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে কলার বাজারদর। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যে কলা কেজি প্রতি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। সারের দাম, শ্রমিকের মজুরি এবং সেচের খরচ মিলিয়ে চাষের যা খরচ পড়েছে, বর্তমান বাজারদরে সেই মূলধনটুকু ঘরে তোলাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের কাছে।
ঘরোয়া বাজারেও ঠাঁই নেই
বিদেশের দরজা বন্ধ হওয়ায় নিরুপায় হয়ে চাষিরা তাঁদের ফসল পাঠাচ্ছেন দিল্লি বা গোয়ালিয়রের মতো দেশীয় বাজারগুলিতে। কিন্তু সেখানেও জোগানের আধিক্য থাকায় দাম মিলছে না। চাষি গৌরী শঙ্কর বা মনোহরের মতো অনেকেরই ফসল এখন খেতভর্তি হয়ে পাকার অপেক্ষায়, কিন্তু দেখা নেই ক্রেতার। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত (Middle East Tension) সপ্তম দিনে আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। লক্ষ্য ছিল ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি (US-Israel Iran Conflict)। বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা (IDF)। একই সময়ে লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে ইজরায়েল। সেই হামলায় অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাত (Iran Israel War) শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের হিসেব অনুযায়ী, ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০-রও বেশি মানুষ। লেবাননে মৃতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি। ইজরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক ডজন মানুষ। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার বাহিনীর ছয় জন সেনারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।