কেজরিওয়াল এই রায়কে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি একটি অন্তঃসারশূন্য ও সাজানো মামলা ছিল।”

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 27 February 2026 19:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বড় জয় পেয়েছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal)। বহুল চর্চিত দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় শুক্রবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত কেজরিওয়াল, মণীশ সিসৌদিয়া এবং বিআরএস নেত্রীকে কবিতা-সহ ২৩ জন অভিযুক্তকেই সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government) ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “সাহস থাকলে দিল্লিতে আবার নির্বাচন করিয়ে দেখুন। বিজেপি যদি ১০টির বেশি আসন পায়, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
‘ভিত্তিহীন’ মামলা: আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ
এ দিন প্রায় ৬০০ পাতার রায়ে আদালত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর পেশ করা তথ্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিচারক জানান, বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক অভিসন্ধির যে অভিযোগ সিবিআই এনেছিল, তার সপক্ষে ন্যূনতম কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি তারা। এমনকি মামলাটি বিচারের স্তরে নিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত উপাদানও মেলেনি। কেজরিওয়াল এই রায়কে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এটি একটি অন্তঃসারশূন্য ও সাজানো মামলা ছিল।”
মোদী-শাহকে তোপ
আদালত থেকে রেহাই পাওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, আপকে ধ্বংস করতে এবং তাঁকে গদিচ্যুত করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ফেঁপেছিলেন। তিনি বলেন, “স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এটিই ছিল বৃহত্তম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। ক্ষমতার লালসায় গত এক বছরে দিল্লির ৩ কোটি মানুষের জীবন ছারখার করে দেওয়া হয়েছে।” গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি (BJP) জয়লাভ করার পর থেকে শহরের পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রেক্ষাপট ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ
২০১৫ ও ২০২০ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও, গত বছরের (২০২৫) নির্বাচনে আপ মাত্র ২২টি আসনে থমকে যায় এবং ৪৮টি আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরে। সেই হারের ক্ষত এবং আবগারি দুর্নীতির কলঙ্ক ঝেড়ে ফেলে কেজরিওয়াল এ দিন বলেন, “দিল্লির মানুষ এখন আপনাদের ওপর বীতশ্রদ্ধ। ক্ষমতা থাকলে ফের ভোট হোক, ফলাফল হাতেনাতে দেখতে পাবেন।”
তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি ছিল, ২০২১-২২ সালের আবগারি নীতিতে বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই অভিযোগেই ২০২৩ সালে মণীশ সিসৌদিয়া এবং ২০২৪-এ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ কারাবাস ও জামিনের টানাপড়েন শেষে এ দিনের রায় আপ শিবিরে অক্সিজেনের জোগান দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে হাওয়া বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।