একটি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় গত বুধবার এই নির্দেশে একথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিয়ের সময়েই কোনও মহিলার গোত্রও পরিবর্তিত হয়ে যায়।
শেষ আপডেট: 25 September 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও মেয়ের হিন্দু মতে বিয়ে হয়ে গেলে, হিন্দু আইনানুসারে তাঁর গোত্রও সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়ে যায়। একটি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত মামলায় গত বুধবার এই নির্দেশে একথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে উল্লিখিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আনা একটি আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত বলেছে, কোনও স্বামীহারা নিঃসন্তান মহিলার মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন স্বামীর পরিবারের কেউ। মহিলার বাপেরবাড়ির কেউ সেই সম্পত্তির ভাগ পাবেন না। কারণ, বিয়ের সময়েই কোনও মহিলার গোত্রও পরিবর্তিত হয়ে যায়।
সর্বোচ্চ আদালতের একমাত্র মহিলা বিচারপতি বিভি নাগরত্ন বলেন, হিন্দু সমাজে ‘কন্যাদান’ নামে একটি প্রথা চালু আছে। যাতে কোনও মেয়েকে যখন তাঁর বাবা বা বাড়ির কোনও আত্মীয় স্বামীর হাতে সমর্পণ করে দেন, তখন তাঁর গোত্রও পরিবর্তিত হয়। গোত্র হল সাধারণ উত্তরাধিকার পরিচয়, বংশ মর্যাদা। আদালত আরও জানিয়েছে, হাজার হাজার বছর ধরে যা চালু আছে সমাজে তা ভেঙে দেওয়ার কোনও ইচ্ছা আদালতের নেই।
উল্লেখ্য, শীর্ষ আদালতের কাছে ভূরিভূরি আবেদন এসেছে যে, নিঃসন্তান হিন্দু স্বামীহারা মহিলার সম্পত্তির ওয়ারিশ কে হবেন। যদি তিনি উইল না করে যান তাহলে তাঁর সম্পত্তির ভোগদখল স্বামী না বাপেরবাড়ির উত্তরাধিকারী পাবেন? বর্তমান আইনে এরকম ক্ষেত্রে উইল ছাড়া সম্পত্তি শ্বশুরবাড়ির হস্তগত হয়। বাপেরবাড়ির কেউ পান না।
আদালতে এরকমই একটি আর্জি এসেছে যেখানে কোভিড ১৯-এর সময় এক অল্পবয়সি দম্পতির মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই দুজনের সম্পত্তি চেয়ে ছেলে এবং মেয়েটির মা আর্জি জানান আদালতে। আরও একটি মামলায় নিঃসন্তান এক দম্পতির মৃত্যুর পর লোকটি বোন তাঁদের সম্পত্তির দাবি করেন। আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, এটা একটি জনস্বার্থ সমস্যা তাই শীর্ষ আদালতের উচিত পদক্ষেপ করা। তখনই বিচারপতি বিভি নাগরত্ন ও আর মাধবনের বেঞ্চের কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনজীবী।
বিচারপতি নাগরত্ন কন্যাদান ও গোত্রদানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, যখন কোনও মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় হিন্দু শাস্ত্র মতে ওই মেয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণত স্বামী ও তাঁর পরিবারের হাতে সমর্পণ করে দেন পিতা। তিনি আরও বলেন, কোনও মেয়ে বিয়ের পর তাঁর দাদা বা ভাইয়ের কাছে খোরপোষের আর্জি জানাতে পারেন না। বিয়ের প্রথা অনুসারে বিশেষত দক্ষিণ ভারতে বিয়ের সময় মেয়ের গোত্র বদলে যায়। ফলে তাঁর উইল ছাড়া সেই সম্পত্তি শ্বশুরবাড়ির ভাগেই যাবে।