নীতীশ কুমারের পক্ষে সওয়াল করতে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Union Minister Giriraj Singh)। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার কোনও ভুল করেননি।” তাঁর যুক্তি, কোনও চাকরি বা ভোটের সময় যেমন পরিচয় নিশ্চিত করতে মুখ দেখাতে হয়, এখানেও সেটাই হয়েছে।

হিজাব বিতর্কে নীতীশ কুমার
শেষ আপডেট: 18 December 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar hijab controversy) একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও ঘিরে শুরু হওয়া হিজাব বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এক মহিলা আয়ুষ চিকিৎসকের মুখে হাত দিয়ে হিজাব (Hijab) সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যেমন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তেমনই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বিজেপি থেকে শুরু করে এনডিএ-র শরিক দলের নেতারাও। একের পর এক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মঙ্গলবার ১,২০০-র বেশি আয়ুষ চিকিৎসকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) প্রথমে এক হিজাব পরা মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁকে ওই চিকিৎসকের মুখ থেকে হিজাব সরানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। সেই সময় উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধী দল আরজেডি (RJD) ও কংগ্রেস (Congress) কড়া সমালোচনায় সরব হয়।
এই পরিস্থিতিতে নীতীশ কুমারের পক্ষে সওয়াল করতে নামেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Union Minister Giriraj Singh)। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমার কোনও ভুল করেননি।” তাঁর যুক্তি, কোনও চাকরি বা ভোটের সময় যেমন পরিচয় নিশ্চিত করতে মুখ দেখাতে হয়, এখানেও সেটাই হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “এটা কোনও ইসলামিক রাষ্ট্র নয়। এটা ভারত। এখানে ভারতীয় আইনই চলবে।” তিনি আরও দাবি করেন, নীতীশ কুমার ওই মহিলা চিকিৎসকের অভিভাবকের মতো আচরণ করেছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং
তবে বিতর্ক (CM Hijab Row) আরও জোরাল হয় যখন 'ওই মহিলা যদি চাকরি নিতে না চাইতেন', এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নে গিরিরাজ সিং বলেন, “ও চাকরি নিতে না চাক কিংবা নরকে যাক...।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পিডিপি নেত্রী ইলতিজা মুফতি (Iltija Mufti reaction) সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি লেখেন, এই ধরনের মন্তব্যের জন্য ওই নেতার মুখ ‘ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।’ তিনি মুসলিম মহিলাদের হিজাব বা নিকাব স্পর্শ না করার হুঁশিয়ারিও দেন।
এদিকে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ তাঁর পক্ষে থেকে দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রীকে বয়স ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে আক্রমণ করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিহারের মন্ত্রী জামা খান বলেন, “নীতীশজি একজন মুসলিম কন্যার প্রতি ভালবাসা দেখিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন সমাজ ওই মেয়ের মুখ দেখুক, যে নিজের জীবনে সফল হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।
তবে এনডিএ শরিক নিষাদ পার্টির নেতা ও উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদের মন্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি অন্য কোথাও ছুঁতেন, তাহলে কী হত?”
সব মিলিয়ে, নীতীশ কুমারের একটি মুহূর্তের আচরণ থেকে শুরু হয়ে হিজাব বিতর্ক এখন রাজনৈতিক শালীনতা, সংবেদনশীলতা এবং নারীর সম্মান- এই সব প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে, একথা বললে ভুল হবে না।