
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 24 February 2025 10:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট (LCA) Mk-1A যুদ্ধবিমান উৎপাদনে কেন দেরি হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, আইএএফ প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং যুদ্ধবিমান সরবরাহে দেরি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়।
ভারতীয় নৌসেনায় ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে, যা জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাটতি পূরণে ৮৩টি (LCA) Mk-1A যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ না হওয়ায় নৌসেনা বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে।
এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং প্রকাশ্যে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বেঙ্গালুরুতে অ্যারো ইন্ডিয়া শো চলাকালীন হ্যালের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি হ্যালের উপর কোনও ভরসা রাখতে পারছি না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।'
এয়ার চিফ জানুয়ারিতে এক বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে অর্ডার করা ৪০টি তেজস Mk-1 যুদ্ধবিমানের এখনও ৪টি সরবরাহ হয়েছে। এদিকে, ২০২১ সালে অর্ডার করা ৮৩টি তেজস Mk-1A যুদ্ধবিমান এখনও সরবরাহ করা হয়নি। হ্যাল তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, কেবলমাত্র কারিগরি জটিলতার কারণেই দেরি হচ্ছে, এটি কোনও গাফিলতির বিষয় নয় এবং তারা শীঘ্রই বিমান সরবরাহের কাজ শেষ করবে।
যুদ্ধবিমান সরবরাহে এত দেরি কেন? এবার তা খতিয়ে দেখতেই প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা মূল সমস্যাগুলি চিহ্নিত করবে এবং কীভাবে সেই সমস্যা সমাধানের পর উৎপাদন দ্রুততর করা যায়, তার সুপারিশ দেবে।
এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়টিও ভাবনাচিন্তা করে দেখা হবে, যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।
প্রসঙ্গত, আত্মনির্ভর ভারতের পথে একধাপ এগোতে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিমান নির্মাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কমিটির সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে নৌসেনা বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি হবে।