পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আপাতত প্রাক বর্ষার আনন্দ নিচ্ছে দিল্লিবাসী। একাধিক বিমান দেরিতে চলায় ও বাস-ট্রেনে সমস্যা হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা।

দিল্লি বিমানবন্দরের ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 25 May 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে একনাগারে বৃষ্টি। বইছে ঝোড়ো হাওয়াও। দিল্লি বিমানবন্দরে ভেঙে পড়ল শেড। এপর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। প্রবল বৃষ্টির জেরেই এই ঘটনা বলে জানাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
চলতি মাসের শুরু থেকেই কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী নয়ডাতে। হয়েছে ধুলো ঝড়ও। প্রবল বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে রাজধানীর একাধিক এলাকা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হয় বেশ কিছু জায়গায়। শুক্রবার বরুণদেব খানিকটা স্বস্তি দিলেও শনিবার ফের শুরু হয় বর্ষণ। রাতভর প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের জেরে ফের বিপর্যস্ত হয় দিল্লি। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে যায়। চরম ট্র্যাফিক জ্যামের ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হয় প্রায় সকলের। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক ফ্লাইট দেরিতে ছাড়ছে রবিবার।
মৌসম ভবন বলছে, সাফদারজঙ্গে এ মাসে এখনও পর্যন্ত ১৮৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা মে মাসের গড় ২১.৯ মিলিমিটারের প্রায় নয়গুণ এবং এই পরিমাণ বৃষ্টি মে মাসে আগে কখনও হয়নি। এর আগের রেকর্ড ছিল ২০০৮ সালে, ১৬৫ মিলিমিটার।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে শনিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ মৌসম ভবন লাল সতর্কতা জারি করে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়। সতর্কবার্তায় জানানো হয়, 'দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড় ধেয়ে আসছে। যার ফলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া (৪০-৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বা তার বেশি) বইতে পারে। হতে পারে ধুলোঝড়ও। বজ্রপাত ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।'
পরে আরও সতর্ক করে বলা হয়, এই ঝড়ের গতি ৬০-১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। এবং এর প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়া, অস্থায়ী বিদ্যুতের খুঁতি পড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং যানচলাচলে বিপর্যয় ঘটতে পারে। বজ্রপাতে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে বৃষ্টি হয়েছে -
সাফদারজং: ৮১.৪ মিমি
লোধি রোড: ৬৯.৬ মিমি
আয়া নগর: ৩৭ মিমি
পালাম: ৬৮.৫ মিমি
রিজ: ৬৯.১ মিমি
রাতের ঝড়ে বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮২ কিমি এবং রাজধানীর তাপমাত্রা মাত্র ৯০ মিনিটে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়। রাত ১টা ১৫ থেকে আড়াইটের মধ্যে সাফদারজঙের তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে নেমে আসে ২১ ডিগ্রিতে। একইভাবে তাপমাত্রা কমে পালাম ও লোধি রোডেও।
মৌসম ভবনের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট উমাশঙ্কর দাস জানান, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের বাতাস এবং আরব সাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বাতাস যখন উত্তর-পশ্চিম ভারতে মধ্য স্তরের শুষ্ক পশ্চিমী বায়ুর সঙ্গে মেশে, তখন এমন তীব্র বজ্রঝড় তৈরি হয়। এই অবস্থার পিছনে এছাড়াও একাধিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন -
উত্তর পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীর সংলগ্ন অঞ্চলের ওপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা রয়েছে। যার ফলে উপরের স্তরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে
উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও উত্তর হরিয়ানার ওপর ১.৫ কিমি উচ্চতায় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে পশ্চিম রাজস্থান ও তার আশপাশের এলাকায় নিম্ন স্তরে ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে।
পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন আপাতত প্রাক বর্ষার আনন্দ নিচ্ছে দিল্লিবাসী। একাধিক বিমান দেরিতে চলায় ও বাস-ট্রেনে সমস্যা হওয়ায় দুর্ভোগে পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা।