২৭ জুন রাজ্য জানায়, তাদের আর্থিক সংকট রয়েছে। লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর ডিএ বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটাতে প্রায় ১০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দরকার। এই টাকা বর্তমান অর্থবর্ষের বাজেটে নেই।

সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 4 August 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Pending DA) নিয়ে আজ, সোমবার ফের শুনানি হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। ঠিক ছ’সপ্তাহ আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ডিএ বকেয়ার অন্তত ২৫ শতাংশ কর্মীদের হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা হয়নি। বরং সময় শেষ হওয়ার দিনই, ২৭ জুন রাজ্য একটি নতুন আবেদন জানিয়ে আরও ছ’মাস সময় চেয়েছে।
আজ বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পিকে মিশ্রর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি রয়েছে। রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে কি না, এখন সে দিকে তাকিয়ে ডিএ আন্দোলনকারীরা।
গত ১৬ মে শুনানিতে (DA Case in Supreme Court) সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, তারা চাইলে তখনই রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ করে দিতে পারত। কিন্তু তা না করে বিচারপতিরা জানান, অগস্ট মাসে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। তবে তার আগেই রাজ্যকে অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া দিতে হবে।
২৭ জুন রাজ্য জানায়, তাদের আর্থিক সংকট রয়েছে। লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর ডিএ বকেয়ার ২৫ শতাংশ মেটাতে প্রায় ১০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দরকার। এই টাকা বর্তমান অর্থবর্ষের বাজেটে নেই। এই বিপুল অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে ঋণ তুলতে হবে। আর সে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
এছাড়াও রাজ্য আরও কয়েকটি যুক্তি দেয়-
রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ডিএ বকেয়ার মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে-
কতটা ফারাক কেন্দ্র-রাজ্যের ডিএ-তে?
বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা পান ১৮ শতাংশ হারে ডিএ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল কয়েক মাস আগে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা পান ৫৫ শতাংশ হারে ডিএ। অর্থাৎ এখনও ৩৭ শতাংশ ফারাক রয়েই গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের এই আর্থিক যুক্তিগুলোকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বকেয়ার ভাগ্য। যদি আদালত রাজ্যের সময় চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়, তা হলে চাপ আরও বাড়বে নবান্নের উপর।
আজকের শুনানিতে রাজ্যকে কোনও ছাড় দেওয়া হয় কি না বা ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত অবস্থান নেয় কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ আদায় এখন শুধুই আইনি লড়াইয়ের ওপর নির্ভরশীল।