এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সিইও শশিধর জগদীশন বিরুদ্ধে ২.০৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এফআইআর হয়েছে। মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল পরিচালনাকারী ট্রাস্ট এই অভিযোগ করেছে। ব্যাঙ্কের তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

শশীধর জগদীশন।
শেষ আপডেট: 9 June 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর্থিক জালিয়াতি মামলায় তদন্তের মুখে পড়েছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক-এর সিইও শশীধর জগদীশন। মুম্বইয়ের বিখ্যাত লীলাবতী হাসপাতাল পরিচালনাকারী সংস্থা 'লীলাবতী কীর্তিলাল মেহতা মেডিক্যাল (এলকেকেএম) ট্রাস্ট' তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে।
ট্রাস্টের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের এক প্রাক্তন সদস্য জগদীশনকে ২.০৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন, যেটি মূলত এক বর্তমান ট্রাস্ট সদস্যের বাবাকে হেনস্থা করার উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ৩০ মে মুম্বই ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের নির্দেশে বান্দ্রা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যেখানে জগদীশন-সহ আরও সাতজনের নাম রয়েছে। ট্রাস্ট দাবি করেছে, এই অর্থ লেনদেনের প্রমাণস্বরূপ তারা হাতে লেখা ডায়েরির এন্ট্রিও জমা দিয়েছে।
১৯৯৬ সালে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে ফিনান্স ডিভিশনের ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন জগদীশন। এর পরে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ১৯৯৯ সালে ফিনান্স প্রধান হন। ২০০৮ সালে তিনি চিফ ফিন্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হন।
২০১৯ সালে তাঁকে 'স্ট্র্যাটেজিক চেঞ্জ এজেন্ট' হিসেবে মনোনীত করা হয়, যেটি ব্যাঙ্কের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। ২০২০ সালে তিনি আদিত্য পুরীর জায়গা নেন এবং ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও পদে বসেন।
মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড থেকে অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি। পাশাপাশি, তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টও।
২০২৩ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) তাঁর মেয়াদ বাড়ায় ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক এক বিবৃতিতে জগদীশনের বিরুদ্ধে লীলাবতী ট্রাস্টের অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে বর্ণনা করেছে। ব্যাঙ্ক দাবি করেছে, ট্রাস্টের বর্তমান ট্রাস্টি প্রশান্ত মেহতা ও তাঁর পরিবার ব্যাঙ্কের কাছে বিপুল ঋণের দায়ে রয়েছে, যা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তারা আইনি পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের 'ভিত্তিহীন দাবি'র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করবে এবং তারা তাদের সিইও-র সুনাম ও পদমর্যাদা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।