Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
অ্যাপল ওয়াচ থেকে ওউরা রিং, কেন একসঙ্গে ৩টি ডিভাইস পরেন মুখ্যমন্ত্রী? নেপথ্যে রয়েছে বড় কারণপ্রসবের তাড়াহুড়োয় ভয়াবহ পরিণতি! আশাকর্মীর গাফিলতিতে দু'টুকরো হল শিশুর দেহ, মাথা রয়ে গেল গর্ভেই২০ বছরের 'রাজ্যপাট'! ইস্তফা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ‘সুশাসন বাবু' নীতীশ কুমারের, উত্তরসূরির শপথ কবেমুম্বইয়ের কনসার্টে নিষিদ্ধ মাদকের ছড়াছড়ি! 'ওভারডোজে' মৃত্যু ২ এমবিএ পড়ুয়ার, গ্রেফতার ৫IPL 2026: ‘টাইগার জিন্টা হ্যায়!’ পাঞ্জাবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাইরাল মিমের স্মৃতি উসকে দিলেন সলমন আইপ্যাকের ডিরেক্টর গ্রেফতারের পর এবার পরিবারের পালা! ইডির নজরে প্রতীক জৈনের স্ত্রী ও ভাই, তলব দিল্লিতেSakib Hussain: গয়না বেচে জুতো কিনেছিলেন মা, সেই ছেলেই আজ ৪ উইকেট ছিনিয়ে আইপিএলের নতুন তারকা হয় গ্রেফতার, নয় কৈফিয়ত! অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে কলকাতার থানাগুলোকে নির্দেশ লালবাজারের‘মমতা দুর্নীতিগ্রস্ত! বাংলায় শুধু সিন্ডিকেট চলে, কাজই বেকারের সংখ্যা বাড়ানো’, মালদহে রাহুল‘আমার মতো নয়’! সন্দেহের বশে ৬ বছরের ছেলেকে নদীতে ফেলে খুন, দেহ ভেসে উঠতেই ফাঁস বাবার কীর্তি

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো ঢেলে সোনা কিনছে, তারা কী এমন ইঙ্গিত পেয়েছে যা অনেকেই জানেন না

বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনা কেনায় রেকর্ড গড়ছে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো ঢেলে সোনা কিনছে, তারা কী এমন ইঙ্গিত পেয়েছে যা অনেকেই জানেন না

শেষ আপডেট: 9 June 2025 13:37

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনা কেনায় রেকর্ড গড়ছে (Central Banks Buying Gold)। শুধুই বাজারে দাম বাড়া বা সময় বুঝে বিনিয়োগ নয়। বরং মনে করা হচ্ছে এটা হল, বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কা করে একটা সুচিন্তিত পদক্ষেপ।

সম্প্রতি লিঙ্কডইনে এক পোস্টে আর্থিক পরামর্শদাতা চক্রবর্তী ভি লিখেছেন, “এখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি বছরে ১,০০০ টনেরও বেশি সোনা কিনছে (Banks Buying Gold)। বিশ্বে যত সোনার বার উৎপাদিত হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই কিনে নিচ্ছে এই সংস্থাগুলি। এটা কেবল প্রবণতা নয়—এটা একটি বার্তা।”

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কও পিছিয়ে নেই

ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ৫৭.৫ টন সোনা কিনেছে, যা গত সাত বছরে তাদের সবচেয়ে বড় বার্ষিক সোনা কেনা। ফলে RBI-র মোট সোনা মজুত এখন পৌঁছেছে ৮৭৯.৫৮ টনে। এর বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৬৮ লক্ষ কোটি টাকায়—আগের বছর ছিল ৪.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৃদ্ধির পিছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে—এক, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের প্রায় ৩০% বৃদ্ধি, এবং দুই, মুদ্রার অবমূল্যায়ন। শুধু RBI-র ‘ব্যাঙ্কিং ডিপার্টমেন্ট’-এর অধীনে থাকা সোনার দাম ৫৭% বেড়ে এখন ৪.৩১ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে।

কেন এই হঠাৎ সোনার প্রতি এত আকর্ষণ?

দীর্ঘদিন ধরে সোনা ছিল ‘স্টোর অব ভ্যালু’—মূল্য সংরক্ষণের প্রতীক। কিন্তু ২০২২-এর পর থেকে সোনার গুরুত্ব ফের বাড়তে শুরু করেছে। তার বহুবিধ কারণ রয়েছে। যেমন ভূরাজনৈতিক সংঘাত (যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ), মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরতা নিয়ে আশঙ্কা, আমেরিকার মতো ধনী দেশগুলিতে ঋণের পাহাড়।

রাশিয়ার বিদেশি মুদ্রা সম্পদ পশ্চিমি দেশগুলি ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি বুঝে গিয়েছে, শুধুমাত্র ডলার বা ইউরোর উপর নির্ভর করলে সেই সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়ে যেতে পারে। সেখানে সোনা ধরে রাখা যায়, মজুত করা যায়, এবং কোনও দেশের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না—তাই ‘সিকিউরিটি অ্যাসেট’ হিসেবে এর গুরুত্ব বাড়ছে।

সোনা কি ডলারের আধিপত্যের বিকল্পের ইঙ্গিত?

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি নতুন বিন্যাসের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অনেক দেশ ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, এবং সোনা সেই লক্ষ্যপূরণে একটি কার্যকর বিকল্প। এই পরিস্থিতিতে অনেকে মনে করছেন, ভবিষ্যতে হয়তো একটি বৈশ্বিক মুদ্রাব্যবস্থা আসবে যেখানে মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে বাস্তব সম্পদের গুরুত্ব আরও বাড়বে।

চক্রবর্তী ভি-এর বক্তব্য, “যা-ই আসুক, একটা ব্যাপার নিশ্চিত—ভবিষ্যতে অস্থিরতা বাড়বে। আর সোনা? সেটা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটা ঢাল।”

সব মিলিয়ে যেখানে বিশ্বজুড়ে আর্থিক বাজারগুলো অনিশ্চয়তায় দুলছে, সেখানে সোনা আবার মাথা তুলছে নির্ভরযোগ্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে। ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলিও এখন সোনার দিকে ঝুঁকছে ভবিষ্যতের বিপদ আঁচ করে।


```