হরিয়ানার মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। তিন মহিলা কর্মীকে ঋতুস্রাব প্রমাণে গোপনাঙ্গের ছবি তুলতে বলেন সুপারভাইজাররা। অভিযোগে এফআইআর, এক জন সাসপেন্ড। তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঋতুস্রাব (Period) হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করার জন্য তিন জন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে জোর করে জামা-কাপড় খুলতে বলে গোপনাঙ্গের ছবি তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে হরিয়ানার মহর্ষি দয়ানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় (MDU)-এ। এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ অক্টোবর। অভিযুক্ত দুই সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং একজনকে সাসপেন্ড করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, সুপারভাইজার বিনোদ এবং বীতেন্দ্র তাঁদের ধীরে ধীরে কাজ করার জন্য এবং ছুটি নেওয়ার জন্য প্রথমে বকাবকি করেন। যখন কর্মীরা জানান যে তাঁদের ঋতুস্রাব হয়েছে। এবং অন্য সিনিয়রদের থেকে ছুটি নেওয়ার অনুমতি ছিল, তখন দুই সুপারভাইজার মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন।
এরপর তাঁরা কর্মীদের পোশাক খুলে ফেলতে নির্দেশ দেন। বলেন, 'ঋতুস্রাব হয়েছে কি না, তা আগে প্রমাণ করো।' কর্মীরা জানিয়েছেন, বিনোদ ও বীতেন্দ্র এরপর অন্য এক মহিলা কর্মীকে নির্দেশ দেন, তাঁদের শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে স্যানিটারি প্যাডের ছবি তুলতে।
অভিযোগকারী মহিলারা তাঁদের অভিযোগে বলেন, "তাঁরা বলেন, ঋতুস্রাব হয়েছে কি না, আমরা বুঝব কী করে, আগে আপনারা আপনাদের গোপনাঙ্গের ছবি প্রমাণ হিসাবে তুলুন।"
দু'জন কর্মী এই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করায় তাঁদের গালিগালাজ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দেওয়া হয়। চাপের মুখে দু'জন মহিলা শৌচাগারে গিয়ে ছবি তুলে দেন। অভিযুক্ত সুপারভাইজাররা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার শ্যাম সুন্দরের নির্দেশে কাজ করছেন বলেও তাঁরা জানান।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অন্যান্য মহিলা কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রী, এমনকি ছাত্র সংগঠনগুলিও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু করে। তারা ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্টেট উইমেন কমিশনের চেয়ারপার্সনের কাছেও পাঠান।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কে কে গুপ্তা এক বিবৃতিতে জানান, অভিযুক্ত সুপারভাইজারদের মধ্যে একজনকে তাত্ক্ষণিক সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "পুরো ঘটনার তদন্ত করা হবে। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের ছাড়া হবে না। প্রয়োজন হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসটি/এসসি আইনে মামলাও দায়ের করা হবে।"
PGIMS পুলিশ স্টেশনের এসএইচও রোশন লাল জানান, দুই সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ, ভয় দেখানো এবং মহিলাদের শালীনতা লঙ্ঘনের মতো ধারায় চার্জ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো ধরনের অনুপযুক্ত আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।