উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে সরকারি ক্ষতিপূরণের টাকা বোনের বিয়েতে খরচ করার কথা ওঠায় ক্ষুব্ধ যুবক। খুন করলেন নিজের বোনকেই। মৃতদেহ বস্তায় ভরে পুলিশকে বললেন, তাতে গম আছে। পরে উদ্ধার হয় তরুণীর পচাগলা দেহ।

রাম ও তাঁর বোন নীলম
শেষ আপডেট: 31 October 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে (Gorakhpur) নৃশংস খুন। ৩২ বছরের রাম আশিস নিষাদ (Ram Ashish Nishad) মেরে ফেলল নিজের বোন নীলমকে (Neelam)। তারপর দেহ বস্তায় ভরে মোটরবাইকে করে নিয়ে গিয়ে ফেলে আসল কুশীনগরের (Kushinagar) আখখেতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগের টাকা নিয়েই হয়েছে এই খুন। নীলমের বাবা চিনকু নিষাদ (Chinku Nishad) সরকারি প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা মেয়ে নীলমের বিয়েতে খরচ করবেন বলে ঠিক করেন। শুনে রেগে যান দাদা রাম। নিজের অংশ দাবি করেন বাবার কাছে, না পেয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা।
সোমবার রাম বোনের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে হাত-পা ভেঙে দেহ ভরে ফেলেন একটি বড় বস্তায়। সেই বস্তা বেঁধে মোটরবাইকে তুলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কুশীনগর যান।
রাস্তায় পুলিশ থামালে রাম জানান ‘বস্তায় গম আছে।’ সন্দেহ না করেই পুলিশ ছেড়ে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই বস্তাতেই ছিল নীলমের দেহ।
নীলম নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে তাঁর বাবা ভেবেছিলেন, ছটপুজোয় (Chhath Puja) আত্মীয়দের বাড়ি গিয়েছেন মেয়ে। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানান, সোমবার সকালে রামকে বস্তা বেঁধে মোটরবাইকে যেতে দেখা গিয়েছিল। সন্দেহ ঘনীভূত হয়। খবর দেওয়া হয় থানায়।
পুলিশ প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি নেয়, পরে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত শুরু হয়। জেরায় প্রথমে রাম সব অস্বীকার করেন, পরে খুনের কথা স্বীকার করে নেন। বুধবার রাতে কুশীনগরের আখখেত থেকে উদ্ধার হয় পচাগলা দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নীলমের বিয়ে জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল। ক্ষতিপূরণের পুরো ৬ লক্ষ টাকা সেই বিয়ের খরচে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন বাবা চিনকু। ওই সিদ্ধান্তই কাল হয়ে দাঁড়ায় মেয়ের জন্য।