রাধিকার মোবাইল ডেটা উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। উঠে আসতে পারে নতুন কিছু তথ্য, যা এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাধিকা ও তাঁর বাবা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 July 2025 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাধিকা যাদব হত্যাকাণ্ড ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রহস্য। সুশান্ত লোকের দু’তলা বাড়িতে নিজের মেয়েকে গুলি করে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর বাবা, দীপক যাদব। পুলিশের দাবি, খুনের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এই খুনের পিছনে আসল কারণ কী, তা জানতে এবার রাধিকার মোবাইল ফোনের মুছে ফেলা ডেটার দিকে নজর গেল হরিয়ানা পুলিশের।
রাধিকার আইফোনটি পাঠানো হয়েছে হরিয়ানার তথ্যপ্রযুক্তি দফতর, ডাইটেক-এ। কারণ মোবাইলটি পাসওয়ার্ড-লক করা ছিল এবং সেই পাসওয়ার্ড বাবা-মা কেউই জানতেন না। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রাধিকা যে কয়েক দিন আগে নিজের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দিয়েছিলেন, সেটাই হতে পারে এই খুনের সূত্রপাত বা অন্তত ইঙ্গিতবাহী কোনও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট।
রাধিকার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী, হিমাংশিকা সিং রাজপুত, ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে কদিন আগে দাবি করেন, রাধিকার খুন নিছক তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দীপক যাদব তিন দিন আগেই পরিকল্পনা করেছিলেন মেয়েকে খুন করার। হিমাংশিকা আরও অভিযোগ করেন, রাধিকার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত ছিলেন তাঁর বাবা। মেয়ে অর্থ উপার্জন করছে, স্বাধীনভাবে জীবন কাটাচ্ছে, এই বিষয়গুলো তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না।
বান্ধবীর কথায়, রাধিকাকে বাড়ির লোকজন ‘মানসিকভাবে শেষ’ করে দিচ্ছিলেন। ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরতে হত’, ‘বাইরে গেলে ভিডিও কল করে লোকেশন দেখাতে হত’ এমন নানা নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল তাঁর উপর। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছিল যে, শেষ দিকে রাধিকা যেন ‘হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন’, দাবি করেন বান্ধবী।
তিনি আরও বলেন, 'দীপক যাদবের কিছু আত্মীয় এবং পরিচিত ব্যক্তি রাধিকার স্বনির্ভরতা এবং জনপ্রিয়তায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন। এমনও কটূক্তি করা হয়েছিল, মেয়েকে ‘বেশ্যাবৃত্তিতে’ ঠেলে দাও।' সেই রকমই একাধিক পুরুষতান্ত্রিক মন্তব্য নাকি দীপকের ইগোতে লাগে, যার পরিণতিই এই নির্মম খুন।
পরিবার অবশ্য এই দাবি খারিজ করে দেয়। তাঁদের বক্তব্য রাধিকা সারা পৃথিবী ঘুরে বেরিয়েছে খেলার জন্য। কোনওদিনও তাঁকে আটকানো হয়নি। এক সদস্য বলেন, 'ও যদি এতটাই দমবন্ধ পরিস্থিতিতে থাকত, তা হলে নিজের খরচে বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে যেত কী করে? আর ও তো নিজেই টেনিস কোচিং দিত, বাচ্চাদের ট্রেনিং করাত!' রাধিকার এক খুড়তুতো ভাই বলেন, 'যে পরিবার রাধিকার খেলাধুলোর পিছনে এত অর্থ খরচ করেছে, ভিসা করিয়েছে, টিকিট কেটেছে, সেই পরিবারই কীভাবে ওর সাফল্যে বাধা হবে?'
তদন্তকারীদের কাছে দীপক যাদব স্বীকার করেছেন, তিনি নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান। তার মধ্যে চারটি গুলি রাধিকার গায়ে লাগে। পুলিশের অনুমান, মূল কারণ দীপকের অপমানবোধ। অনেকেই নাকি তাঁকে বলতেন, 'মেয়ের টাকায় চলছো।' এই মন্তব্যে ক্রমাগত ক্ষোভ জমতে থাকে।
রাধিকার মোবাইল ডেটা উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। উঠে আসতে পারে নতুন কিছু তথ্য, যা এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।