রাধিকার পরিবার নাকি ছোট জামাকাপড় পরা, নিজের মত চলাফেরা করা, কোনও কিছুই মেনে নিতে পারেনি।

রাধিকা ও তাঁর বান্ধবী
শেষ আপডেট: 13 July 2025 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুরুগ্রামে রাধিকা যাদব খুনের ঘটনা নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাঁর বান্ধবী তথা সহ-টেনিস খেলোয়াড় হিমাংশিকা সিং রাজপুত। আবেগঘন পোস্টে গোটা ঘটনার জন্য আঙুল তুললেন রাধিকার বাবা দীপকের দিকেই।
হিমাংশিকা শনিবার ওই ভিডিওটি পোস্ট করেন। লেখেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু রাধিকাকে খুন করেছে ওর বাবা। পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়, চারটে লাগে রাধিকার গায়ে। দীর্ঘ দিন ধরেই ওর জীবনটা নরক করে তুলেছিল ওর বাবার দমনমূলক আচরণ। হিংসুটে লোকদের কথা শুনে শেষমেশ খুনের সিদ্ধান্ত নেয়।'
রাধিকার পরিবার নাকি ছোট জামাকাপড় পরা, নিজের মত চলাফেরা করা, কোনও কিছুই মেনে নিতে পারেনি। হিমাংশিকার ভাষায়, 'ও নিজের কেরিয়ারের জন্য প্রচুর খাটছিল, একটা অ্যাকাডেমিও গড়ে তুলছিল। কিন্তু ওর বাড়ির লোকের সহ্য হচ্ছিল না ওর স্বাধীনতা। ওদের খারাপ লাগত ও শর্টস পরেছে, কারও সঙ্গে কথা বলছে, নিজের মতো বাঁচছে দেখে।'
হিমাংশিকার বিস্ফোরক পোস্ট থেকে জানা যায়, তাঁদের বন্ধুত্ব ২০১২-১৩ সালের দিকে হয়। রাধিকা ২৫ বছর বয়সি হলেও তাঁর কোনওরকম স্বাধীনতা ছিল না। অসুস্থ পরিবেশে থাকছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। সংযত স্বভাবের হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে নাকি বাড়ি থেকে বেরোতে হলে হিসেব দিতে হত। ভিডিও কলে কথা বললেও, কার সঙ্গে কথা বলছেন, তা বাড়ির লোককে দেখাতে হত। অ্যাকাডেমি বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে হলেও, কোনওভাবেই সামান্যও দেরি করতে পারতেন না। বান্ধবীর অভিযোগ, রাধিকা ছবি তুলতে, ভিডিও বানাতে ভালবাসতেন, কিন্তু পরে বন্ধ করে দিয়েছিলেন বাড়ির লোক পছন্দ করতেন না বলে।
রাধিকার খুনের ঘটনায় যখন 'লাভ জিহাদ' তত্ত্ব ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, হিমাংশিকা তখন তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে লেখেন, 'যারা এই খুনকে লাভ জিহাদের রং দিচ্ছে, তাদের কাছে প্রমাণ কোথায়? রাধিকা এমনিতেই বেশি কারও সঙ্গে কথা বলত না। ওর জীবনটা ছিল বিচ্ছিন্ন, গৃহবন্দির মতো।'
পুলিশও জানিয়েছে, এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনও তত্ত্বে তারা আগ্রহী নয়। বরং তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে রাধিকার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, যেখানে কোচ অজয় যাদবের সঙ্গে তিনি বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এক পুলিশ অফিসারের কথায়, 'চোটের জন্য কেরিয়ার বদলের কথা ভাবছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হতে চেয়েছিলেন। পরে কোচিং শুরু করেন।'
গ্রেফতারির পর রাধিকার বাবা দীপক যাদব খুনের কথা স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি এই খুনের জন্য নিজের ফাঁসির দাবিও করেন। দীপকের দাদা বিজয় যাদব বলেন, 'ও বলেছে, ওর ফাঁসি হওয়া উচিত। নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমরাও স্তম্ভিত।'