পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর হেফাজতে থাকাকালীন নিজের মৃত্যুদণ্ডের অনুরোধ করে ভেঙে পড়েন।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 13 July 2025 09:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ২৫ বছর বয়সি রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদবকে গুলি করে খুন করেছেন তাঁর বাবা দীপক যাদব। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর হেফাজতে থাকাকালীন নিজের মৃত্যুদণ্ডের অনুরোধ করে ভেঙে পড়েন।
রাধিকার কাকা বিজয় যাদব এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে বলেন, “তিনি বলেছেন, তিনি ‘কন্যাবধ’ করেছেন। যদি ফাঁসির বিধান থাকে, তাহলে যেন তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। থানাতেও একথা বলেছেন।”
গুরগাঁওয়ের বাড়ির রান্নাঘরে, রান্না করার সময়ই মেয়েকে পেছন থেকে তিনটি গুলি করেন রাধিকার বাবা দীপক যাদব।
পুলিশ জানিয়েছে, দীপক খুব অল্পই কথা বলছেন জেরার সময়। তদন্তকারীদের মতে, তিনি হয়তো শোক, অপরাধবোধ, কিংবা মানসিক ভেঙে পড়ার কারণে কথা বলছেন না।
দীপক পুলিশকে জানান, সমাজে তাঁর সম্পর্কে বলা হচ্ছিল তিনি নাকি মেয়ের উপার্জনে জীবন চালান। এই ‘অপমান’ ও সামাজিক কটাক্ষ তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। গত ১৫ দিন ধরে তিনি হতাশায় ছিলেন, কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলতেন না। সেই মানসিক চাপ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি তাঁর।
রাধিকা যাদব ছিলেন একজন রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড়, পাশাপাশি নিজের একটি টেনিস অ্যাকাডেমিও চালাতেন। পরিবারে তিনিই ছিলেন প্রধান রোজগেরে। প্রতিবেশীদের অনেকেই বলেন, রাধিকা তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভা দিয়েই পরিবারকে টানছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
খুনের সময় বাড়িতে থাকলেও রাধিকার মা মঞ্জু যাদব এই ঘটনায় কোনওভাবেই জড়িত ছিলেন না, এমনটাও নিশ্চিত করেছে গুরগাঁও পুলিশ।
গুরগাঁও পুলিশর মুখপাত্র বলেন, “প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হলেও তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে তিনি কিছু জানতেন। দীপক যাদব একাই এই খুনের পরিকল্পনা ও ঘটনা ঘটিয়েছেন।”