‘সৌন্দর্য নিয়ে হিংসা’ থেকেই নাকি সে শিশুদের টার্গেট করত। বিশেষত ছোট, সুন্দর মেয়েদের। পুলিশের কথায়, এক ধরনের বিকৃত ঈর্ষা ও মানসিক বিদ্বেষ থেকেই তার এই ভয়াবহ আচরণ।

শেষ আপডেট: 3 December 2025 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌন্দর্য নিয়ে চাপা প্রতিযোগিতা, হিংসার আগুন! আর তা থেকেই একের পর এক শিশুহত্যা (jealousy killing)। হরিয়ানার পানিপথ (Panipat murder) থেকে উঠে এল এমনই এক রোমহর্ষক অভিযোগ। ছয় বছরের এক নাবালিকাকে খুনের দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন এক মহিলা। মৃত শিশুটি সম্পর্কে তাঁর ভাইঝি। পুলিশ জানিয়েছে, এটাই প্রথম ঘটনা নয়, অভিযুক্ত পুনম আগে আরও তিন শিশুকে খুন করেছে - তার মধ্যে নিজের ছেলেও আছে (Panipat woman murders children)।
অভিযোগ তাঁর ভাইঝিকে জলের গামলায় ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন। পুনমের থেকেও বেশি 'সুন্দর' কারও উপস্থিতি সহ্য করতে পারতেন না ওই মহিলা। সেই কারণেই এই চরম পরিণতি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, পানিপথের ইসরনা এলাকার নৌলথা গ্রামে। গোটা পরিবার সেদিন গিয়েছিল সোনিপতে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে। সেখানে ছ’ বছরের বিধি, তার মা–বাবা, দাদু–ঠাকুমা এবং দশ মাসের ছোট ভাই সবার একসঙ্গেই ছিল।
বিয়ের বাড়ির ভিড়ে হঠাৎ নিখোঁজ ৬ বছরের বিধি
সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ বিয়ের শোভাযাত্রা নৌলথায় পৌঁছয়। পরিবারের বাকিরা বাইরে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধির বাবা সন্দীপ ফোন পান যে, মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবার চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে বিধির ঠাকুমা ওমবতী দোতলায় একটি স্টোররুমে যান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো ছিল। ভিতরে ঢুকতেই তার চোখ আটকে যায় ভয়ঙ্কর দৃশ্যে।
ছোট্ট বিধি একটি বড় গামলায় মুখ ডোবানো অবস্থায় পড়ে আছে। পা দু’টো বাইরে, মাথা সম্পূর্ণ জলের নিচে। আতঙ্কে চিৎকার করে তিনি সবাইকে ডাকেন। দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় এনসি মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সন্দেহজনক মৃত্যুর অভিযোগ জানিয়ে এফআইআর দায়ের করে।
পরিবারের ভিতরেই লুকিয়ে ছিল মৃত্যুর ছায়া
তদন্তে বেরিয়ে আসে চমকে যাওয়ার মতো বিষয়। পুলিশ জানায়, বিধির নিজের পিসি, পুনমই আসল খুনি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে ভেঙে পড়ে। জানায়, সে চায়নি তার থেকে সুন্দর কেউ থাকুক।
জানা গিয়েছে, ‘সৌন্দর্য নিয়ে হিংসা’ থেকেই নাকি সে শিশুদের টার্গেট করত। বিশেষত ছোট, সুন্দর মেয়েদের। পুলিশের কথায়, এক ধরনের বিকৃত ঈর্ষা ও মানসিক বিদ্বেষ থেকেই তার এই ভয়াবহ আচরণ।
৪টি শিশুহত্যার স্বীকারোক্তি
পুনম জেরায় জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সে প্রথম খুন করে স্বামীর বোনের মেয়েকে। তারপর যাতে কেউ সন্দেহ না করে, তাই নিজের ছেলেকেও খুন করে সে। ২০২৪-এর অগস্টে সিওয়া গ্রামে আরেকটি মেয়েকে খুন করে, “ও আমার থেকে বেশি সুন্দর ছিল,” পুলিশের কাছে এমনটাই দাবি পুনমের। আর সর্বশেষ, বিধি।
সব ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতি - জলে ডুবিয়ে হত্যা। পুলিশের দাবি, চারটি খুনই পরিকল্পিত এবং প্রতিবারই পরিবারের অনুষ্ঠানের ভিড় বা অসতর্ক মুহূর্ত কাজে লাগিয়েছে পুনম।
পুলিশের এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠেছে নৌলথা–সিওয়া–সোনিপতের গ্রামাঞ্চল।
বিধির পরিবার তো বটেই, পুনমের নিজের বাড়িও স্তম্ভিত। কেউ বুঝতেই পারেনি শান্ত, নিরীহ মুখের নীচে এমন অন্ধকার লুকিয়ে আছে। পুলিশ পুনমকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করেছে। আরও খুঁটিনাটি জানতে তদন্ত চলছে।