খুনের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আচলের বাবা, ভাই সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে নান্দেড় পুলিশ। সক্ষমের মা অভিযোগ জানানোর পর খুন ও অত্যাচার দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 December 2025 21:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের (Maharastra) নান্দেড়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে এখন উত্তাল দেশ। জাতপাতের গোঁড়ামিই প্রাণ কেড়েছে ২০ বছরের সক্ষম তাতের (Saksham Tate)। এরপর তাঁর প্রেমিকা ২১ বছরের আঁচল মামিদওয়ার (Anchal Mamidwar) মৃতদেহকেই বিয়ে করেন। তিনি ফের বিস্ফোরক দাবি করেছেন।
২১ বছরের আচলের কথায়, খুনের দিনই তাঁর দাদা তাঁকে থানায় নিয়ে যায় সক্ষমের বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো অভিযোগ’ (Fake Allegation) জমা দিতে। তিনি না মানায় নাকি পুলিশ তাঁদের বলেন, অভিযোগ সাজানোর বদলে 'যাকে নিয়ে সমস্যা, তাকে খুন করে এসো!' আঁচলের দাবি, ওই মন্তব্যকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে তাঁর দাদারা সক্ষমকে মেরে ফেলে (Murder)।
খুনের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই আচলের বাবা, ভাই সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে নান্দেড় পুলিশ। সক্ষমের মা অভিযোগ জানানোর পর খুন ও অত্যাচার দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
আঁচল জানান, তিন বছর ধরে তাঁর সঙ্গে সক্ষমের সম্পর্ক। কিন্তু সক্ষম তফশিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। আঁচলের দাবি, “তাঁরা বলেছিল, বিয়ে করতে চাইলে সক্ষমকে ধর্ম বদলাতে হবে। সক্ষম তাতেও রাজি ছিল। কিন্তু ওরা শুধু সুযোগ খুঁজছিল।”
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আঁচলের পরিবারের (Anchal Family) কয়েকজন সক্ষমকে দেখতে পেয়ে নাকি প্রথমে গুলি চালায়, তারপর বড় পাথর দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সক্ষমের। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবক এবং অভিযুক্ত, দুই পক্ষেরই পূর্বে কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। তবু দু’জনের সম্পর্ক টানাপড়েন বাড়িয়ে তুলেছিল পরিবারে।
আচলের অভিযোগ, খুনের পরও পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, “জাতের জন্যই ওকে খুন করা হয়েছে। খুনিদের মৃত্যুদণ্ড চাই। সক্ষমের জন্য ন্যায় চাই।”
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আঁচল কেঁদে ফেলেন বারবার। বলেন, “আমার পরিবারই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিন বছর ধরে আমরা একসঙ্গে ছিলাম। আমার ভাইয়েরা বারবার বলেছিল, ওরাই আমাদের বিয়ে দেবে। শেষ মুহূর্তে প্রতারণা করল।”
আঁচল জানান, তাঁর সঙ্গে সক্ষমের পরিচয় ইনস্টাগ্রামে। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা নাকি সক্ষমের সঙ্গে মেলামেশা করতেন, খেতেন, হাসি ঠাট্টা করতেন যাতে ছেলেটির মনে বিশ্বাস তৈরি হয়। আঁচলের কথায়, “ও ভাবত, সব ঠিক আছে। কখনও ভাবিনি এভাবে ওকে মেরে ফেলবে।”