পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সুনীল বিবাহিত, তার দুটি সন্তান রয়েছে। বেশ কিছু সময় ধরেই শীতলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, শনিবার দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারমধ্যেই শীতলের গায়ে হাত তোলেন সুনীল।

শীতল
শেষ আপডেট: 17 June 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানার মডেল শীতলের দেহ উদ্ধারের পরের দিনই খুনের কিনারা করল পুলিশ। মৃতার প্রেমিক শীতলকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Haryana Model Sheetal Murder Case)।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সুনীল বিবাহিত, তার দুটি সন্তান রয়েছে। বেশ কিছু সময় ধরেই শীতলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন তিনি। অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, শনিবার দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারমধ্যেই শীতলের গায়ে হাত তোলেন সুনীল। পাল্টা তরুণীও তাকে মারেন। এরপরই রাগের বশে ধারাল অস্ত্র দিয়ে শীতলকে একাধিকবার আঘাত করেন যুবক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তরুণীর (Haryana Model Sheetal Murder Case)। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য মৃতদেহ গাড়িতে রেখে বেরিয়ে যান সুনীল। এলাকা থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি খালে ফেলে দেয়।
পানিপথের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সুনীল। সেখানেই পুলিশের সামনে অপরাধ স্বীকার করেছেন তিনি। গোটা বিষয়টিকে গাড়ি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর, যদিও শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন।
পুলিশের তরফেই আরও জানা গিয়েছে, শনিবার হরিয়ানার পানিপথে একটি অ্যালবাম শুটে এসেছিলেন পেশায় মডেল শীতল চৌধুরী ওরফে সিমি। রাত ১০.৩০ টা নাগাদ সুনীল সেখানে পৌঁছান এবং শীতলকে নিজের গাড়িতে করে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে যান। সেখানেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
রাত প্রায় ১:৩০ টে নাগাদ শীতল তাঁর বোন নেহাকে ভিডিও কল করে জানান যে সুনীল তাঁকে মারধর করছেন। এরপরই শীতলের ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। পুলিশ জানায়, পরে সুনীল শীতলকে খুন করে গাড়িসহ দেহ খালে ফেলে দেন।
১৫ জুন খাল থেকে সুনীলের গাড়ি উদ্ধার হয়। হরিয়ানা পুলিশ পানিপতের কাছাকাছি একটি খাল থেকে সুনীলের গাড়ি উদ্ধার করে। কিন্তু গাড়ির ভিতরে কোনও দেহ পাওয়া যায়নি। প্রথমে সুনীল হাসপাতালে পৌঁছে দাবি করেন যে, দুর্ঘটনার কারণে গাড়ি খালে পড়ে যায়। শীতল (Haryana Model Sheetal Murder Case) ডুবে গেলেও তিনি নিজে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যান।
সোমবার, সোনিপতের খারখোদা অঞ্চলের খাল থেকে একটি গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেটিকে শনাক্ত করা হয় শীতল চৌধুরীর দেহ হিসেবে। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, পানিপথ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে খারখোদায় দেহটি ভেসে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, করনালের একটি হোটেলে কাজ করার সময় সুনীল ও শীতলের পরিচয় হয়। প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক ছিল। সুনীল বিয়ের প্রস্তাব দেন শীতলকে। তবে সুনীল যে বিবাহিত এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে, একথা জানতে পারার পর শীতল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও
শীতল নিজেও বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর পাঁচ মাসের সন্তান রয়েছে। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে অভিযুক্ত শীতলকে খুন করেছেন , তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।