উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার গুলমার্গ মরশুমের প্রথম তুষারপাতে ঢেকে গিয়েছে।

গুলমার্গের ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 October 2025 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজয়ার রাতেই আসন্ন শীত মরশুমের সুখবর নেমে আসল কাশ্মীরের গুলমার্গে। উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার গুলমার্গ মরশুমের প্রথম তুষারপাতে ঢেকে গিয়েছে। বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন স্কি রিসর্ট ও তার চারপাশ সাদা বরফের পুরু কম্বলে ঢেকে রয়েছে। দূরের পাহাড়েও বরফের চাদর জমে গিয়েছে।
তুষার পড়ায় কেবলমাত্র উপত্যকার তাপমাত্রা একধাক্কায় নেমে যায়নি, বরং খুশির রং ছড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে মরশুমের ভরা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল পহলগামে জঙ্গি হানা। প্রায় মাসখানেক বন্ধ থাকার পর পর্যটন কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়া হলেও অনেকে কাশ্মীর যাত্রা বাতিল করে দেন। যার ফলে এ বছর কাশ্মীর পর্যটন প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়ে। দুর্গার কৈলাসযাত্রার রাতেই মরশুমের প্রথম তুষারপাতে হোটেল ও পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত মানুষ খুব খুশি।
পর্যটন ব্যবসায় যুক্তরা শুক্রবার জানান, এত আগে তুষার পড়াটা খুবই আশাব্যঞ্জক। এতে ভ্রমণার্থীদের ভিতর উৎসাহ গড়ে তুলবে। সাত তাড়াতাড়ি শীতকাল চলে এলে পর্যটকের ঢল ফের উপচে পড়বে বলে আশায় বুক বেঁধেছেন উপত্যকার ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেন, এই তুষারপাতেই আবার বুকিং শুরু হয়ে যাবে। এবার বিপুল সংখ্যায় পর্যটকের পায়ের চিহ্ন পড়বে। কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার অন্ধকার কাটিয়ে দিল এই হিমপ্রপাত।
প্রতিবছরই বরফে ঢাকা কাশ্মীর দেখতে প্রচুর সংখ্যায় পর্যটন আসেন। এর মধ্যে বিদেশির সংখ্যা অগুনতি। তাই ব্যবসার দোকান খোলার আগেই এই খবর নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে জানান এক হোটেল মালিক। পহলগামে হানার পরেই সরকার বেতাব ও আরু ভ্যালি বন্ধ করে দেয়। তার অনেক দিন পরে পর্যটন কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়া হলেও পুজোয় তেমন একটা পসরা হয়নি।
শ্রীনগরে থাকা এক ট্যুর অপারেটর বলেন, গুলমার্গে বরফ পড়ার খবর ছেয়ে গিয়েছে। এটা একটা বিরাট শুভ সংকেত। কাশ্মীরের অন্যতম আকর্ষণই হল স্কি, স্নো বোর্ডিং ও শীতকালীন ট্রেকিং। তা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে এই খবরে। গোটা পর্যটন শিল্প এমনই একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে ছিল।
শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আবহাওয়া দফতরও আগামী কয়েকদিন উপত্যকায় বৃষ্টি, তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশেষত উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভাল পরিমাণে তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর জন্য বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা আটকে যেতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা জম্মু-কাশ্মীরের দিকে এগিয়ে আসছে। তার ফলে বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ৪-৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে অবস্থা চরমে থাকবে ৫ অক্টোবরের মধ্যরাত থেকে ৭ তারিখ সকাল পর্যন্ত।