পুলিশ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে মমতা ও আমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পায়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনজনই অপরাধের কথা স্বীকার করে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 22:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহ-বহির্ভুত সম্পর্কের জের! গুজরাতের ভাবনগর জেলায় নির্মমভাবে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা তাঁর প্রেমিক ও প্রেমিকের বন্ধুর সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে, তারপর দেহ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেয়। তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুই দিন আগে ভাবগরের এক গ্রামের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবকের দেহ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা, পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতের পরিচয় জানা যায়, নাম কমলেশ দুধিয়া। পেশায় শ্রমিক। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে সন্দেহ হয়, খুনের আগে মারধর করা হয়েছে তাঁকে। তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তে জানা যায়, স্ত্রী মমতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই তিক্ত হয়ে উঠেছিল। কমলেশের ভাই পুলিশকে জানান, দাম্পত্য কলহ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এরপরই সন্দেহের তির ঘুরে যায় মমতার দিকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মমতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কেভালানি এলাকার বাসিন্দা আমন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। আমনের সঙ্গে নতুন করে সংসার পাততেই স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে মমতা। আমনের বন্ধু অমিতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা তিনজন মিলে খুনের পরিকল্পনা সাজায়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এক রাতে তাঁরা কমলেশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দেহটি গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ফেলে দেয়, যাতে ঘটনাটি ছিনতাই বা অন্য কোনও আক্রমণজনিত ঘটনা বলে মনে হয়।
পুলিশ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে মমতা ও আমনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পায়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনজনই অপরাধের কথা স্বীকার করে।
বর্তমানে মমতা, আমন এবং অমিত - তিনজনকেই গ্রেফতার করে খুন ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তদন্ত চলছে এবং আরও কেউ এই ঘটনায় যুক্ত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।