গুজরাতে ফলছে ‘সোনপরি’ নামের এক বিশেষ প্রজাতির আম। এই আম এখন চাষিদের পছন্দের তালিকার একদম শীর্ষে।

গুজরাতের 'সোনপরি' আম
শেষ আপডেট: 27 May 2025 23:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতে ফলছে ‘সোনপরি’ নামের এক বিশেষ প্রজাতির আম। এই আম এখন চাষিদের পছন্দের তালিকার একদম শীর্ষে। আলফানসো ও দক্ষিণ ভারতের গর্ব বানেশান আমের সংমিশ্রণে তৈরি এই হাইব্রিড আমকে বলা হচ্ছে গুজরাতের সোনালি রত্ন। অথচ রাজ্যের বাইরে এখনও খুব কম মানুষই এর নাম শুনেছেন।

তবে শুধুমাত্র স্থানীয় জনপ্রিয়তাই নয়, সোনপরি এখন আন্তর্জাতিক চাহিদার ফল। গুজরাট ন্যাচারাল ফার্মিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. সি কে টিমবাদিয়া জানান, ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী গুজরাটিদের কাছ থেকে ১,২০০ কেজি সোনপরি আমের অর্ডার এসেছে।
২০০০ সালে নবসারি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পারিয়া কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে উদ্যানতত্ত্ববিদ ড. রজনীকান্ত ভাট সোনপরিকে চিহ্নিত করেন ও বাণিজ্যিক চাষের জন্য সুপারিশ করেন। তার আনুষ্ঠানিক নাম ‘গুজরাত ম্যাঙ্গো হাইব্রিড-১ (GMH-1)’। সোনপরির গাছগুলি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় ৫৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। রং উজ্জ্বল সোনালি, ত্বকে থাকে বাদামি ছোপ। রসালো এই আম ফাইবারহীন, স্বাদে টক-মিষ্টির ভারসাম্য ঠিক যেন আলফানসো, কিন্তু কিছুটা অন্যরকম।

সুরাটের উমরগাঁও তালুকের ফনসা গ্রামের কৃষক ভাকতেশ ঠাকর জানান, আলফানসোর একাধিক সমস্যাকে পিছনে ফেলে সোনপরি আরও টেকসই এবং নিয়মিত ফল দেয়। তাঁর ফার্মে ৪,৫০০ সোনপরি গাছ রয়েছে। সোনপরি রোগ প্রতিরোধে সক্ষম, ফাঙ্গাস ও কীটের হাত থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত। ফ্রেশ অবস্থায় দশদিন পর্যন্ত ঘরের তাপমাত্রায় ভাল থাকে। ফলে রপ্তানি এবং বাজারের দিক থেকেও এটি লাভজনক।

বর্তমানে নবসারি, ভালসাদ, জুনাগড় ও গির-সোমনাথ জেলার বহু চাষি কেসার ও মালগোভার পরিবর্তে সোনপরি চাষে ঝুঁকেছেন। মহারাষ্ট্রেও কিছু কৃষক এই জাতটি গ্রহণ করেছেন। নাসিকের জনার্দন ওয়াঘেরে জানান, ২০২৫ সালে তৃতীয় বছরে প্রতিটি গাছ থেকে তিনি ২০ কেজি ফল পেয়েছেন, যেখানে আলফানসো দিয়েছে মাত্র ৫ কেজি।

তবে এখনও সরকারি কৃষি কেন্দ্রগুলি কেবল গুজরাতের কৃষকদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সোনপরি চারা দিচ্ছে। ২০২৪ সালে ৫,০০০ চারা বিতরণ হয়েছে, ২০২৫-এ ৮,০০০ চারা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জুনাগড়ের ৩২ বছর বয়সি বায়োটেকনোলজি পাস সুমিত সামসুদিন ঝারিয়া তাঁর 'অনিল ম্যাঙ্গো ফার্মস'-এ ৬০০ মা গাছ রেখে গত দুই বছরে ১৫,০০০ চারাগাছ বিক্রি করেছেন, প্রতিটির দাম ২৫০–৪০০ টাকার মধ্যে। সোনপরি আম জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকতে শুরু করে এবং ১৪ দিন পর্যন্ত না পচেই থেকে যায়। রোগবালাইহীন গাছগুলিকে পোকা থেকে বাঁচাতে ফরমোন ট্র্যাপ ব্যবহার করেন কৃষকরা।

২০২১ সালের ঘূর্ণিঝড় তাউকতের সময় যখন সুরাট ও সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে কেসার আমের মারাত্মক ক্ষতি হয়, তখন সোনপরি গাছগুলি টিকে ছিল। এরপরই এই জাতের চারা নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। এক বছরের চারার দাম উঠে যায় ৬০০ টাকা পর্যন্ত। নবসারির জালালপাত তালুকের আবরামা গ্রামের ৬৯ বছর বয়সি প্রমোদভাই একটি ২০ কেজির সোনপরি বাক্স ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা সত্যিই অবাক করার মতো।