দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবারে কান্নার রোল। গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 July 2025 07:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের ভদোদরায় ভয়াবহ সেতু বিপর্যয়ের (Gujarat Bridge Collapse) ঘটনা ঘটেছে। ৪০ বছরের পুরনো সেতু ভেঙে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের (Death)। বহু মানুষ নিখোঁজ এবং আহত। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রীই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন তাঁর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা।
দারিয়াপুরম, মুজহপুরা গ্রামের পাঁচজন একসঙ্গে একটি ভ্যানে করে ভবনগর জেলার বাগদানা যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই সেতুর একটি স্ল্যাব হঠাৎ ভেঙে গেলে নদীতে পড়ে যায় তাঁদের গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই চারজনের। তবে সেই গাড়ি থেকে অলৌকিকভাবে বেরিয়ে আসেন একজন মহিলা — সোনাল বেন রমেশ পাধিয়ার। তিনিই ছিলেন সেই গাড়ির একমাত্র জীবিত যাত্রী।

সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ব্রিজ ভেঙে নীচে পড়ে যাওয়ার পর তিনি ধ্বংসাবশেষে আটকে ছিলেন। সেই অবস্থায় সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। গাড়ির কাঁচ ভেঙে কোনওক্রমে বেরিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামী, আমার ছেলে, কাউকে বাঁচান..., আমার সন্তানকে উদ্ধার করুন। বাঁচাও, বাঁচাও।'' কিন্তু কেউই বাইরে আসতে পারেনি।
মহিলা এও জানিয়েছেন, এই ঘটনার কিছু পরে উপর দিয়ে পড়ে যায় আরও একটি ট্রাক। ততক্ষণ সব শেষ। তাঁর স্বামী ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গাড়িতে থাকা আরও একটি দু’বছরের শিশুও মারা গেছে।
ঘটনার পরে তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করে প্রশাসন। নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গাড়ি ও দেহ। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেতুটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, তা জেনেও সরকার বা পুরসভা ব্যবস্থা নেয়নি।
দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবারে কান্নার রোল। গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতুগুলির পরিকাঠামোগত অবস্থা ঘিরে ফের একবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য।