দেওয়ালিতে যাতে বিধিবদ্ধভাবে কয়েক ঘণ্টা পরিবেশ বান্ধব বাজি পোড়ানো, বিক্রি ও উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে বেশ কিছু আর্জি জমা পড়েছিল শীর্ষ আদালতে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন সাময়িক ভিত্তিতে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন।
শেষ আপডেট: 15 October 2025 12:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়ালি উপলক্ষে দিল্লি সহ এনসিআর এলাকায় পরিবেশ বান্ধব বাজি পোড়ানোর অস্থায়ী অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার গুচ্ছ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। দেওয়ালিতে যাতে বিধিবদ্ধভাবে কয়েক ঘণ্টা পরিবেশ বান্ধব বাজি পোড়ানো, বিক্রি ও উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়, সে ব্যাপারে বেশ কিছু আর্জি জমা পড়েছিল শীর্ষ আদালতে। আগের দিনের শুনানিতে সরকারপক্ষও কচিকাঁচাদের আনন্দের কথা মাথায় রেখে সময় নির্দিষ্ট করে পরিবেশ বান্ধব পোড়ানোতে আপত্তি জানায়নি। সব দিক মাথায় রেখে এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন সাময়িক ভিত্তিতে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশে বলেছে, আগামী ১৮-২১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেবলমাত্র পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি না করা বাজি পোড়ানো যাবে। সন্ধ্যারাত ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং সকালে ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত পরিবেশ বান্ধব বাজি পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, এই নির্দেশ কেবলমাত্র অস্থায়ীভাবে। এতদিন দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় পুরোপুরি বাজি নিষিদ্ধ ছিল। আদালত এও বলেছে, এ কারণে শহর এলাকার বাইরে থেকে বাজি পাচার হয়ে ঢোকে। যা দিল্লির দূষণের অন্যতম কারণ।
আদালত বলেছে, আমরা একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলছি, যার অর্থ কোনওভাবেই পরিবেশের সঙ্গে আপস করা হবে না। যারা নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ বান্ধব বাজি বিক্রি ও পোড়ানো যাবে কেবলমাত্র পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অনুমোদন ও ছাড়পত্র মেলার পর। যাতে কিউআর কোড থাকতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গাতেই বাজি বিক্রি করতে হবে। এই লক্ষ্যে নজর রাখার উদ্দেশ্যে পুলিশকে একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
পুলিশ বিভাগকে আদালত বলেছে, বাজি উৎপাদক সংস্থাগুলির উপর নজরদারির জন্য টহলদারি দল গঠন করতে। সেই সঙ্গে কিউআর কোড ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিতে। যাতে সকলেই সেই কোম্পানির সম্পর্কে অবহিত হতে কিনতে পারেন। দিল্লি-এনসিআর এলাকার বাইরের রাজ্য থেকে কোনও বাজি এনে বিক্রি অথবা পোড়ানো যাবে না। যদি কাউকে ধরা হয়, তাহলে সেই বিক্রেতার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
একইসঙ্গে আদালত কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB) ও এনসিআর এলাকার অন্যান্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বায়ুদূষণের পরিমাণ নজরে রাখার কথা বলেছে। দেওয়ালির পর সকলকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।