নিক্কির পরিবার জানিয়েছে, প্রতিবার নির্যাতনের পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হত যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

শেষ আপডেট: 26 August 2025 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপিন ও রোহিত ভাটি দুই বেকার ভাই, যাঁরা বাবার মুদি দোকানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাঁরাই বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে একটি দামী SUV, রয়্যাল এনফিল্ড মোটরবাইক, ৫০০ গ্রাম সোনা এবং নগদ অর্থ পেয়েছিলেন। কিন্তু এতেও তাঁদের চাহিদা শেষ হয়নি।
দুই বোন নিক্কি ও কাঞ্চন পার্লার ও বুটিক ব্যবসা শুরু করেন আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টায়। দুই ভাই তাঁদের উপার্জনও হাতিয়ে নিতে শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ, এই নিয়েই বাড়িতে নিয়মিত অশান্তি চলত। বৃহস্পতিবার এক এমন ঝগড়ার পরিণতি নিক্কির ভয়ানক মৃত্যু।
জানা গিয়েছে, বিপিন, নিক্কি ও কাঞ্চনের ইনস্টাগ্রামে রিল পোস্ট করা নিয়ে অখুশি ছিল। অথচ বোনেরা নিজেদের ব্যবসা প্রচারের জন্য মেকআপ ও বুটিকের কাজ সংক্রান্ত রিল বানিয়ে পোস্ট করতেন। পরিবারের বক্তব্য, এগুলোকে অজুহাত বানিয়ে বিপিন আসলে তাঁদের থেকে টাকা চাইত।
নিক্কির কাকা এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট, রিল পোস্ট এখন সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু যারা মানসিকভাবে নীচ, তারাই এগুলো খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। আসল কথা, এরা ওদের উপার্জনের টাকা চাইত।"
২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর, নিক্কি ও কাঞ্চনের বিয়ে হয় বিপিন ও রোহিতের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে শুরুতে গাড়ি, গয়না, এমনকী সন্তানের জন্মের পর বাইকও দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠে আসে, বিপিন মদ্যপানে আসক্ত এবং এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কেও জড়িত ছিল। নিক্কির বাবার একটি মার্সিডিজ গাড়ি ছিল, সেটির ওপরও বিপিনের নজর ছিল। দাবি ছিল— হয় মার্সিডিজ দাও, নয়তো ৬০ লক্ষ টাকা।
নিক্কির পরিবার জানিয়েছে, প্রতিবার নির্যাতনের পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হত যে সব ঠিক হয়ে যাবে। এমনকী এ বছরের শুরুতে দুই বোনই বাবার বাড়ি চলে এসেছিলেন, পরে মিল-মিশের পর আবার শ্বশুরবাড়ি ফেরেন। কিন্তু এর ফলই হল মর্মান্তিক।
এফআইআরের অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিপিন ও তাঁর মা দয়া মিলে নিক্কিকে মারধর শুরু করে। কাঞ্চন বাধা দিলে তাঁকেও আঘাত করা হয়। এরপর বিপিন নিক্কির গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়।
কাঞ্চনের রেকর্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিপিন নিক্কিকে মারধর করছে। আরেকটি ভিডিওতে আগুনে জ্বলতে থাকা নিক্কিকে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে দেখা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, দিল্লির সাফদরজং হাসপাতালে তিনি মারা যান।
নিক্কির ছয় বছরের ছেলে নিজের চোখে মায়ের ওপর নির্যাতন ও হত্যার সাক্ষী। সে জানিয়েছে, "প্রথমে ওরা মায়ের গায়ে কিছু ঢালে, তারপর থাপ্পড় মারতে থাকে, শেষে লাইটার দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।"