গোটা মহারাষ্ট্রজুড়ে ভাষা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। রাজ ঠাকরে নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS)-র কর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লাগাতার অভিযোগের মুখে। প্রবাসী ও অ- মারাঠাভাষাভাষী মানুষদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক এমন ঝামেলার ঘটনা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
.jpeg.webp)
ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 20 July 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে একটা সামান্য আসন নিয়ে বচসা মুহূর্তেই রূপ নিল ভয়াবহ ঝামেলায়, উঠল ভাষা প্রসঙ্গ। ‘মারাঠা শেখো, না হলে শহর ছাড়ো’,এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের উত্তাল হল মুম্বই। শুক্রবার সন্ধ্যেয় ট্রেনের এক মহিলা কামরায় এই ঘটনার সূত্রপাত।
গোটা ঝামেলার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা গিয়েছে, একসঙ্গে ৬-৭ জন মহিলা আসন নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন, মুম্বই লোকালের মতো ভিড় ট্রেনে যা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বচসার মধ্যেই এক মহিলা অপর এক যাত্রীকে মারাঠানা বলায় তীব্র আক্রমণ করেন। সোজাসাপটা ভাষায় বলেন, 'আমাদের মুম্বইয়ে থাকতে হলে মারাঠা বলতেই হবে, নইলে এখান থেকে বেরিয়ে যান।'
তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাকিরাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তে ভাষা ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা কামরায়। রেল আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP)।
গোটা মহারাষ্ট্রজুড়ে ভাষা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। রাজ ঠাকরে নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS)-র কর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই লাগাতার অভিযোগের মুখে। প্রবাসী ও অ- মারাঠাভাষাভাষী মানুষদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে। একাধিক এমন ঝামেলার ঘটনা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে।
গত সপ্তাহে মুম্বইয়ের ভিখরোলিতে এক দোকানদারকে মারধর করে এমএনএস কর্মীরা। অভিযোগ, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস মারাঠাভাষাভাষীদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, প্রকাশ্যে তাঁকে জোর করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হচ্ছে, সঙ্গে জুটছে হুমকি ও শারীরিক নিগ্রহও।
১ জুলাই থানে-তে এক স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাকে চড় মারা হয় মারাঠাভাষায় কথা না বলায়। একইভাবে পালঘর জেলায় এক পরিযায়ী অটোচালককে মারধর করেন এমএনএস ও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT)-র সমর্থকরা।
এমনকি মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী সুশীল কেডিয়ার অফিসেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। কারণ, কেডিয়া প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তিনি মারাঠাশিখবেন না। হামলার ভিডিওয় দেখা যায়, ৫-৬ জন সমর্থক অফিসে ঢিল ছুঁড়ছেন। এক সুরক্ষা কর্মী বাধা দিতে এগিয়ে এলেও ততক্ষণে তাঁরা ব্যাগ খালি করে ফেলেছেন। পরে ওই ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
পরপর এমন ঘটনায় রাজ্যে ফের ভাষাকে ঘিরে রাজনীতি তীব্র হচ্ছে। প্রশাসন যদিও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে মুম্বইয়ের মতো এক শহরে লোকাল ট্রেনের মতো দৈনন্দিন জীবনের পরিসরেও ভাষা-ভিত্তিক হিংসা যে জায়গা করে নিচ্ছে, তা ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষকেও।