ভাষা-রাজনীতি নিয়ে মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কালে একাধিক বার একাধিক ঝামেলা হয়েছে। গত ১ জুলাই থানের এক স্ট্রিটফুড বিক্রেতাকে মারধর করে এমএনএস কর্মীরা, কারণ তিনি মারাঠিতে কথা বলছিলেন না।

শেষ আপডেট: 13 July 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের পালঘরে মারধরের শিকার হলেন এক উত্তর ভারতীয় অটো অটোচালক। ঘটনাস্থল বিরার রেলওয়ে স্টেশন। অভিযুক্ত শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) এবং রাজ ঠাকরের এমএনএস-এর কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, মারাঠি ভাষাকে ‘অপমান’ করেছেন ওই অটোচালক, তাই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগের একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ভবেশ পাদোলিয়া নামের এক যুবক এক অটোচালককে প্রশ্ন করেন, তিনি মারাঠিতে কথা বলছেন না কেন? তার উত্তরে অটোচালক বলেন, 'আমি হিন্দি বলব, আমি ভোজপুরিও বলি।' সেই ভিডিও নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হয় বিতর্ক।
শনিবার, ওই ঘটনার রেশ টেনে বিরার স্টেশনের কাছে ফের চড়াও হয় শিবসেনা (উদ্ধব) ও এমএনএস-এর এক দল কর্মী। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিকবার ওই অটোচালককে চড়-ঘুষি মারা হচ্ছে। মহিলারাও মারধরে অংশ নেন। পরে তাঁকে প্রকাশ্যে রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় ভবেশ, তাঁর দিদি।
বিরার শিবসেনা (উদ্ধব) শহর শাখার প্রধান উদয় যাদব পরে বলেন, 'যে বা যারা মারাঠি ভাষা বা মহারাষ্ট্রকে অপমান করবে, তাদের শিবসেনার কায়দাতেই জবাব দেওয়া হবে। আমরা চুপ করে থাকব না। অটোচালক মারাঠি মানুষদের অপমান করেছিলেন, তাঁকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছি।'
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। পালঘর জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, 'আমরা ভিডিওটি দেখেছি এবং বিষয়টি যাচাই করছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি।'
ভাষা-রাজনীতি নিয়ে মহারাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কালে একাধিক বার একাধিক ঝামেলা হয়েছে। গত ১ জুলাই থানের এক স্ট্রিটফুড বিক্রেতাকে মারধর করে এমএনএস কর্মীরা, কারণ তিনি মারাঠিতে কথা বলছিলেন না। তারপর থেকেই উত্তেজনা আরও বাড়ে। পাল্টা প্রতিবাদে নামেন বহু ব্যবসায়ী। ফলে উত্তপ্ত হয় মীরা-ভয়ন্দর অঞ্চল।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ৮ জুলাই মারাঠি ‘আস্মিতা’-র সপক্ষে প্রতিবাদ মিছিল করে এমএনএস এবং আরও কয়েকটি বিরোধী দল, যার মধ্যে ছিল উদ্ধবের শিবসেনা ও শরদ পওয়ার গোষ্ঠী এনসিপি-ও। পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও মিছিল হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, প্রাথমিক স্তরে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে। পরে প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। মারাঠি ভাষা ও সংস্কৃতির উপরে ‘হুমকি’ তৈরি হচ্ছে, এই আশঙ্কাতেই রাজ্যজুড়ে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন মারাঠি সংগঠন।
এই আবহেই ফের উত্তপ্ত হয় মহারাষ্ট্র। এবার অটোচালককে মারধরের ঘটনা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্যে একজনকে মারধর করেও কীভাবে বেঁচে যাচ্ছে অভিযুক্তরা? প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।