মহারাষ্ট্রে ভাষা-রাজনীতি উত্তাল। তারই মাঝে ভাইরাল শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের একটি পুরনো ভিডিও। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি মহারাষ্ট্রে মারাঠি হতে পারি, কিন্তু ভারতবর্ষে আমি হিন্দু।”

বাল ঠাকরে
শেষ আপডেট: 7 July 2025 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে ভাষা-রাজনীতি উত্তাল। তারই মাঝে ভাইরাল শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের (Bal Thackeray) একটি পুরনো ভিডিও। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি মহারাষ্ট্রে মারাঠি হতে পারি, কিন্তু ভারতবর্ষে আমি হিন্দু।” কাঁধে গেরুয়া চাদর জড়ানো বাল ঠাকরে সেই ভিডিওতে ভাষার চেয়ে ‘হিন্দুত্ব’-কে গুরুত্ব দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি শনিবার রাতে এক্স-এ পোস্ট করা হয়, যেদিন বিকেলেই এক মঞ্চে একত্রে হাজির হন ঠাকরে পরিবারে দুই ভিন্ন মেরু, উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে। প্রায় দু’দশক পর একত্রে দেখা যায় দুই তুতো ভাইকে। উপলক্ষ, মহারাষ্ট্র সরকারের সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের উদযাপন, যেখানে হিন্দিকে প্রাথমিক শিক্ষায় বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
"I may be Marathi in Maharashtra but I am Hindu in Bharat. We must embrace Hindutva over linguistic identities"
Balasaheb Thackeray
pic.twitter.com/KRrMVkGpYc— Kashmiri Hindu (@BattaKashmiri) July 5, 2025
একদিকে, বাবার আদর্শ রক্ষা করতে মরিয়া উদ্ধব। অন্যদিকে, আগ্রাসী ভাষায় বার্তা দিচ্ছেন রাজ। রাজের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “মহারাষ্ট্রকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে দেখুন, কী ঘটে!” তাঁর দাবি, কেন্দ্রের ‘তিন-ভাষা নীতি’ আসলে মুম্বইকে মহারাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার পূর্বাভাস।
উল্লেখ্য, জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP 2020) আওতায় হিন্দিকে তৃতীয় ভাষা (Hindi Language) হিসেবে বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে নির্দেশ ছিল, ইংরেজি ও মারাঠি মাধ্যমে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হিন্দি শেখা বাধ্যতামূলক। পরে সংশোধন করে বলা হয়, যদি অন্তত ২০ জন ছাত্র বিকল্প ভাষা বেছে না নেয়, তাহলে হিন্দিই হবে তৃতীয় ভাষা। শিক্ষাবিদদের মতে, এই শর্ত কার্যত হিন্দিকেই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে মারাঠি সংগঠনগুলি। প্রতিবাদ বাড়তেই তা রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হয় শাসক মহা-যুক্তি জোট ও বিরোধীদের মধ্যে।
আর সেই পরিস্থিতিতেই সামনে আসে বাল ঠাকরের পুরনো বক্তব্য। যেখানে তিনি বলছেন— ভাষাগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে হিন্দুত্বের চেতনায় এক হতে হবে। সেই বক্তব্য উদ্ধৃত করেই এখনকার ঠাকরে-বংশজরা দাবি করছেন, হিন্দিকে নয়, মাতৃভাষাকেই শ্রদ্ধা জানানো উচিত।
তবে বিতর্ক থেমে নেই। এর মধ্যেই মারাঠি ভাষার নামে পুণে ও মুম্বইয়ে হিংসার অভিযোগ উঠেছে। রাজ ঠাকরের এমএনএস-এর কর্মীরা এক দোকানদারকে মারধর করেন মারাঠি না বলার জন্য। এমনকি এক মোবাইল দোকানে ঢুকে কর্মচারীদের সপাটে চড় মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যার সূত্র দলীয় সাংসদের অফিস বলেই দাবি। ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনও পর্যন্ত কার্যত ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার জেরা শেষে সবাই জামিনে মুক্ত।
এর মধ্যেই মহারাষ্ট্র সরকার চাপে। একদিকে কেন্দ্রের হিন্দি-প্রচেষ্টার সঙ্গে তাল মেলাতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটের বছরে মারাঠি-ভাষাভাষী ভোটারদের মন জয় করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ইতিমধ্যেই রাজ ঠাকরের দলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি এ-ও বলেছেন, “মারাঠি ভাষার মর্যাদা বজায় রাখতে হবে এই রাজ্যে।” আর এই দুই সুরেই এখন চলছে মহারাষ্ট্রের ভাষা-রাজনীতি।