চন্দ্রপুরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণণ ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদে শপথ নেন। এর আগে প্রায় দেড় বছর ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছেন।

সিপি রাধাকৃষ্ণন
শেষ আপডেট: 18 August 2025 08:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণণের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় হঠাৎ অসুস্থতার কারণে গত ২১ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই এই পদটি খালি হয়ে যায়। ২০২২ সালের অগস্টে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর কাটাতেই স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জন্য ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় এনডিএ মনোনীত করল রাধাকৃষ্ণণকে।
কে এই সি পি রাধাকৃষ্ণণ?
চন্দ্রপুরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণণ ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদে শপথ নেন। এর আগে প্রায় দেড় বছর ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছেন। সে সময় তাঁকে তেলঙ্গানার রাজ্যপাল এবং পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
তামিলনাড়ু রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে রাধাকৃষ্ণণের। ১৯৫৭ সালের ২০ অক্টোবর তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্ম। সেখানেই ব্যাচেলর অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বি বি এ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে পা দেওয়ার আগে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭৪ সালে ভরতীয় জনসংঘের তামিলনাড়ু রাজ্য কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য হন। পরে ১৯৯৬ সালে তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন।
১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে কোয়েম্বাটুর থেকে দু’বার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সাংসদ থাকাকালীন টেক্সটাইলস বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস ও ফাইনান্স কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেন। ২০০৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ভারতের প্রথম সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে তাইওয়ান সফরও করেন।
২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন রাধাকৃষ্ণণ। সেই সময়ে ৯৩ দিনের ‘রথযাত্রা’-য় নেতৃত্ব দেন। প্রায় ১৯ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সেই কর্মসূচিতে নদী সংযোগ, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকবিরোধী প্রচারের মতো নানা দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর আমলেই রেকর্ড ২,৫৩২ কোটি টাকার কয়ার রফতানি হয়। ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত কেরলে বিজেপির সর্বভারতীয় দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
রাজনীতির বাইরে খেলাধুলোর প্রতিও বরাবর ঝোঁক ছিল। কলেজ জীবনে টেবিল টেনিস এবং দীর্ঘদৌড়ে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। পাশাপাশি ক্রিকেট ও ভলিবল খেলায়ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।
এ বার এই অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসাতে চাইছে এনডিএ।